হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৬
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সাতক্ষীরা জেলার নদী উপকূলবর্তী জগন্নাথপুর গ্রামের প্রশান্ত বিশ্বাসের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় সে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। কিছুদিন যাবৎ সেখানে ত্রাণও পৌঁছাতে পারেনি। তাকে অভুক্ত অবস্থায় থাকতে হয়। যখন সে ত্রাণ পেল এমনি সময় মুমূর্ষু এক মহিলা তার কাছে খাবার প্রার্থনা করছে। তখন সে নিজে খাবার না খেয়ে তাকে দিয়ে দেয়। কারণ সে জানত মানবতাই ধর্ম।
- ক)(1)
অযোধ্যার রাজা কে ছিলেন?
- খ)(2)
মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয় কেন?
- গ)(3)
প্রশান্ত বিশ্বাসের সাথে রন্তিবর্মার সাদৃশ্য কোথায়? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'মানবতাই ধর্ম'- কথাটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অযোধ্যার রাজা ছিলেন দশরথ।
- খ)
মানুষ জ্ঞান, বিদ্যা ও বুদ্ধিতে সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের মধ্যে মানবতা, ক্ষমা, দয়া, সত্য, সংযম প্রভৃতি গুণ আছে, যা অন্য প্রাণীর নেই।
মানুষ সমাজবদ্ধ জীব এবং অপরের দুঃখে তার প্রাণ কাঁদে। সে ধর্ম অনুশীলন করে পশুবৃত্তি দমন করে মানবিকতা ও নৈতিকতা অর্জন করতে পারে। এসব কারণে মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়।
- গ)
প্রশান্ত বিশ্বাসের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের রাজা রন্তিবর্মার মানবতাবোধ ও আত্মত্যাগের সাদৃশ্য আছে।
রন্তিবর্মার ঘটনা: রন্তিবর্মা ছিলেন প্রজাবৎসল কৃষ্ণভক্ত সম্রাট। অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করার পর আটচল্লিশ দিন তাঁকে কেউ কিছু খেতে দেয়নি। উনপঞ্চাশতম দিনে এক ভক্ত খাবার দিলে তিনি উপবাস ভঙ্গ করতে যাবেন, এমন সময় এক ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক এসে খাবার চাইলে তিনি নিজের খাবার তাকে দিয়ে দেন। ভিক্ষুকের ‘পেট ভরল না’ কথার জবাবে তিনি বলেন, ‘আর তো কিছুই নেই, ভাই।’ এটিই মানবতাবোধ।
উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্য: প্রশান্ত বিশ্বাসের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যায় এবং সে অভুক্ত থাকে। ত্রাণ পেয়েও সে নিজে না খেয়ে ক্ষুধার্ত মুমূর্ষু নারীকে সব খাবার দিয়ে দেয়। নিজে কষ্ট সহ্য করে অন্যের প্রাণ বাঁচানোর এই মানসিকতা রন্তিবর্মার মতোই। দুজনের কাছেই ‘মানবতাই ধর্ম’।
অতএব, নিজের চরম কষ্ট ও ক্ষুধা সত্ত্বেও ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশান্ত ও রন্তিবর্মার সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
“মানবতাই ধর্ম” কথাটির অর্থ হলো, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধই ধর্মের প্রকৃত সার। মানুষকে ভালোবাসা ও সেবা করার মধ্য দিয়েই ধর্ম পালন সম্পূর্ণ হয়।
মানবতার ধারণা: মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। অপরের দুঃখে প্রাণ কেঁদে ওঠা, মানুষের প্রতি এই ভালোবাসা বা মমত্ববোধকে মানবতা বলে। জীবসেবাও মানবতার অঙ্গ। সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয়সংযম, শুদ্ধবুদ্ধি, জ্ঞান, সত্য ও অক্রোধ, ধর্মের এই দশ লক্ষণই মানবতার গঠনে অপরিহার্য।
১. ধর্ম ও মানবতার সম্পর্ক: পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, মানবতা ধর্মেরও অঙ্গ। যার মধ্যে ধর্মের দশ লক্ষণ আছে তিনিই প্রকৃত মানুষ। ধর্ম পালন করলে পশুবৃত্তি দূর হয়ে মানবিকতা জাগ্রত হয়।
২. জীবসেবা ঈশ্বরসেবা: ঈশ্বর জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন। তাই জীবকে ঈশ্বরজ্ঞানে সেবা করাই ঈশ্বরের উপাসনা। নিরন্নকে অন্ন, তৃষ্ণার্তকে জল, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র, রুগ্ণকে ওষুধ ও বিপন্নকে আশ্রয় দেওয়া মানবতা।
৩. উপাখ্যানের দৃষ্টান্ত: রন্তিবর্মা নিজে অনাহারে থেকেও ক্ষুধার্ত ভিক্ষুককে খাবার দিয়েছিলেন। উপাখ্যানের শিক্ষা, মানবতাই ধর্ম। উদ্দীপকের প্রশান্তও সর্বহারা হয়েও মুমূর্ষু নারীকে নিজের খাবার দেয় এবং মানবতাকে ধর্ম মনে করে।
৪. ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণ: মানবতার গুণ অর্জন করলে নিজের পুণ্য হয় এবং অপরের কল্যাণ হয়। এতে সমাজে ভালোবাসা, ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং, মানবতা ছাড়া ধর্ম অসম্পূর্ণ। তাই “মানবতাই ধর্ম” কথাটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও