হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

রবিন দরিদ্রতার কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি এক বেলা রিক্সা চালায়। একদিন এক ব্যক্তি তার মোবাইল ও মানি ব্যাগ রিক্সায় রেখে চলে যান। কিছুক্ষণ পর রবিন সেগুলো দেখে ঐ ব্যক্তির মানি ব্যাগে প্রাপ্ত ঠিকানা অনুযায়ী ঐ যাত্রীকে পৌঁছে দেয়। রবিনের বোন রনিতা খুবই অমায়িক। সে পাড়ার ছোটদের স্নেহের দৃষ্টিতে দেখে এবং বড়দের যথাযথ সম্মান করে।

  1. ক)

    স্মৃতিশাস্ত্র কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিচারের মানদণ্ড কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রবিনের চরিত্রে কোন নৈতিকতাটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রনিতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটির ধর্মীয় গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো .

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ধর্মগ্রন্থসমূহের মধ্যে বেদের পরে কর্তব্য-অকর্তব্য এবং ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ের জন্য রচিত গ্রন্থাবলিকে স্মৃতিশাস্ত্র বলে। যেমন মনুসংহিতা, পরাশর সংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা।

  2. খ)

    বিচারের মানদণ্ড হলো নৈতিক মূল্যবোধ। কোনটি ভালো, কল্যাণকর আর কোনটি মন্দ, অকল্যাণকর তা বিচার করার বোধ বা বিবেচনা শক্তিকে নৈতিক মূল্যবোধ বলে। এই মূল্যবোধের মাপকাঠিতে আমরা কাজ ন্যায় না অন্যায় তা বিচার করি। নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিচারের মানদণ্ড, আর ধর্ম হচ্ছে সেই বিচারের সিদ্ধান্ত বা ফল। যা মূল্যবোধের বিচারে ভালো তা ধর্মসম্মত, আর যা ভালো নয় তা অধর্ম।

  3. গ)

    রবিনের চরিত্রে সততা নামক নৈতিকতা ফুটে উঠেছে।

    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে 'সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা'। সততা মানে সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকা, লোভ করে অন্যের জিনিস আত্মসাৎ না করা। 'গরিব কাঠুরিয়ার সততা' উপাখ্যানে দরিদ্র কাঠুরিয়া সোনা ও রুপার কুঠার পেয়েও নিজের লোহার কুঠারই নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর সততায় মুগ্ধ হয়ে জলদেবী তাঁকে সব কুঠার দিয়ে দেন। আর মিথ্যাচারী মোড়ল কিছুই পাননি।

    উদ্দীপকে রবিন দরিদ্র হয়েও যাত্রীর ফেলে যাওয়া মোবাইল ও মানি ব্যাগ রেখে দেয়নি। সে ঠিকানা দেখে যাত্রীকে খুঁজে ফিরিয়ে দিয়েছে। এ কাজ দারিদ্র্য সত্ত্বেও অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ না করার প্রমাণ। অন্যের দ্রব্য অপহরণ নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্ম উভয় দৃষ্টিতে অন্যায়, তাই রবিনের এই আচরণ সততা ও নৈতিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের রনিতা পাড়ার ছোটদের স্নেহের দৃষ্টিতে দেখে এবং বড়দের যথাযথ সম্মান করে। এটি শিষ্টাচারের বৈশিষ্ট্য। ধর্মীয় দৃষ্টিতে শিষ্টাচারের গুরুত্ব অনেক।

    নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলে। মাতা-পিতা ও গুরুজনদের প্রণাম, সমবয়সীদের শুভেচ্ছা এবং ছোটদের স্নেহ করা এর রকমফের। এর বিশ্লেষণ:

    ১. ধর্মের অঙ্গ: শিষ্টাচার একটি নৈতিক মূল্যবোধ এবং ধর্মের অঙ্গ। ধর্মপথ মানে নৈতিক গুণাবলির পথে চলা। শিষ্টাচারী ব্যক্তি এই পথেই চলেন।
    ২. মনুষ্যত্বের প্রধান উপাদান: শিষ্টাচার মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান, যা মানুষকে পশু-পাখি থেকে আলাদা করে।
    ৩. শ্রদ্ধা ও ভক্তির প্রকাশ: গুরুজনকে প্রণামের মাধ্যমে প্রকাশ পায় ভক্তি ও শ্রদ্ধা। ঈশ্বর ও দেব-দেবীর প্রতি স্তব-স্তুতি ও প্রণামমন্ত্রের মাধ্যমেও ধর্মাচারে শিষ্টাচার প্রকাশ পায়। হিন্দুধর্ম অনুযায়ী জীবে ঈশ্বর বিরাজমান, তাই সকলেই প্রণম্য।
    ৪. সামাজিক সম্প্রীতি: শিষ্টাচারের দ্বারা মানুষের মন জয় করা যায়। এতে পরিবার ও সমাজে সৌহার্দ্য বাড়ে।

    সুতরাং, রনিতার শিষ্টাচার তাকে ধর্মপথের পথিক করেছে। এটি ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন থেকে শুরু করে সামাজিক শান্তি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন