বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

স্বপ্না সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। লেখাপড়ায় যেমন ভালো, খেলাধুলাতেও তেমনি। এজন্য সহপাঠীরা স্বপ্নাকে খুব ভালোবাসত। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি হাত ও একটি পা হারাতে হয় তাকে। এতে স্বপ্না মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সবার সামনে আসতে বিব্রতবোধ করে। লেখাপড়া যে আর হবে না সে ও তার পরিবার নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু তার সহপাঠীরা সান্ত্বনা, সহযোগিতা আর সাহস দিয়ে তাকে আবার লেখাপড়ার ব্যাপারে উৎসাহী করে তোলে। এই স্বপ্নাই একদিন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে স্কুলের সুনাম বৃদ্ধি করে।

  1. ক)

    সুভা জলকুমারী হলে কী করত?

    (1)
  2. খ)

    'আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছিলাম?'— উক্তিটি দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে স্বপ্না মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার দিকটি 'সুভা' গল্পের সুভার সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “সুভার প্রতি সমাজের মানসিকতা যদি উদ্দীপকের সহপাঠীদের মতো হতো, তাহলে 'সুভা' গল্পের সুভার পরিবারকে এত বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না।” মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সুভা জলকুমারী হলে সাপের মাথার মণি ঘাটে রেখে যেত, যা বিক্রি করে প্রতাপ বড়োলোক হতে পারত।

  2. খ)

    উক্তিটি সুভার নীরব মর্মবেদনা প্রকাশ করে। সুভার কোনো অপরাধ ছিল না, তবু সে সবার কাছে অবহেলিত ও বোঝা হয়ে উঠেছে। ভাষা না থাকায় সে অভিযোগ করতে পারে না, তার দৃষ্টিই প্রশ্ন করে। এতে তার অসহায়ত্ব ও সমাজের নির্মমতা বোঝায়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে স্বপ্না সড়ক দুর্ঘটনায় একটি হাত ও একটি পা হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সে সবার সামনে আসতে বিব্রতবোধ করে এবং মনে করে লেখাপড়া আর হবে না।

    'সুভা' গল্পের সুভা জন্ম থেকে বাকপ্রতিবন্ধী। সে নিজের অক্ষমতার কারণে নিজেকে সবার চেয়ে আলাদা ও বোঝা মনে করে, তাই সবার কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় এবং মনে মনে বলে, 'আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি'। স্বপ্না ও সুভা দুজনেই প্রতিবন্ধকতার কারণে মানসিক বিপর্যস্ততা ও হীনমন্যতায় ভোগে। এখানেই তাদের মধ্যে সাদৃশ্য।

  4. ঘ)

    মন্তব্যটি যথার্থ।

    ১. উদ্দীপকের সহপাঠীদের ভূমিকা: স্বপ্নার সহপাঠীরা সান্ত্বনা, সহযোগিতা ও সাহস দিয়ে তাকে আবার লেখাপড়ায় ফিরিয়ে এনেছে। ফলে সে জিপিএ-৫ পেয়ে স্কুলের সুনাম বাড়িয়েছে।
    ২. সুভার প্রতি সমাজের মনোভাব: 'সুভা' গল্পে সমাজ সুভাকে দয়া বা সহযোগিতা করেনি, বরং তাকে অসম্পূর্ণ ও বোঝা হিসেবে দেখেছে। সুভা একাকী ও উপেক্ষিত থেকেছে।
    ৩. পরিবারের বিড়ম্বনা: সুভার বাবা-মা তাকে নিয়ে সামাজিক অপবাদ ও দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তাঁরা সুভাকে পাত্রস্থ করার জন্য কলকাতায় গিয়ে ছলনার আশ্রয় নিয়েছেন, ফলে বিয়ের পর সুভার জীবন আরও দুর্বিষহ হয়েছে।

    সুতরাং, সমাজ সুভার প্রতি সহমর্মী হলে সুভা ও তার পরিবারকে এত বিড়ম্বনা সইতে হতো না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন