বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার রাখাইন রাজ্যের জনগণের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনসহ সব মানবতাবিরোধী অপকর্মে লিপ্ত হয়। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পাড়ি জমায়।মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক শক্তিশালী রাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে ইরাক প্রতিবেশি রাষ্ট্র কুয়েত আক্রমণ করে এবং জোরপূর্বক দখল করে নেয়। ইরাককে দমনের জন্য তার চেয়েও শক্তিশালী আমেরিকা ইরাকে হামলা চালায়।
- ক)(1)
মাৎস্যন্যায় কী?
- খ)(2)
'ত্রিশক্তি সংঘর্ষ' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
অনুচ্ছেদ-১-এ প্রাচীন বাংলার কোন অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"জোর যার মুল্লুক তার"- এই প্রবাদেরই সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় উদ্দীপকের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের একটি ঘটনার উক্তিটির যথার্থতা প্রতিপাদন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
প্রাচীন বাংলায় শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে, তাকে মাৎস্যন্যায় বলে।
- খ)
আট শতকের শেষ দিকে উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিনটি রাজবংশের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা ও যুদ্ধ চলে, তা ‘ত্রিশক্তি সংঘর্ষ’ নামে পরিচিত। এই তিন শক্তি হলো বাংলার পাল, রাজপুতানার গুর্জর-প্রতিহার এবং দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট। এ সংঘর্ষে পাল রাজা ধর্মপাল কয়েকবার পরাজিত হলেও তাঁর বিশেষ ক্ষতি হয়নি। তিনি কান্যকুব্জে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
- গ)
অনুচ্ছেদ-১-এ প্রাচীন বাংলার মাৎস্যন্যায় অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না। রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজ করে। ভূস্বামীরা নিজেরা রাজা হওয়ার চেষ্টায় একে অপরের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয়। পুকুরে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, তেমনি শক্তিশালীরা দুর্বলদের গ্রাস করত। উদ্দীপকের অনুচ্ছেদ-১-এ সামরিক জান্তা সরকার রাখাইনের নিরীহ মানুষের ওপর হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠন চালায়। ক্ষমতাধরদের হাতে দুর্বলদের এই নির্যাতন মাৎস্যন্যায়ের মতোই।
- ঘ)
“জোর যার মুল্লুক তার”— উক্তিটির সাথে উদ্দীপকের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ এবং পাঠ্যবইয়ের মাৎস্যন্যায়ের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে; উক্তিটি যথার্থ।
১. উদ্দীপকে শক্তিশালী ইরাক প্রতিবেশী কুয়েত আক্রমণ করে জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এখানে শক্তির জোরেই দুর্বলের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
২. আবার ইরাকের চেয়ে শক্তিশালী আমেরিকা ইরাকে হামলা চালায়। অর্থাৎ ক্ষমতা যার বেশি, সিদ্ধান্ত তারই।
৩. প্রাচীন বাংলায় শশাঙ্কের পর কেন্দ্রীয় শাসনের অভাবে ভূস্বামীরা পরস্পরের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয়। এ অবস্থাকেই ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসনে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়েছে। সেখানেও শক্তিশালীরা ছোট রাজ্য গ্রাস করত, ন্যায়বিচার ছিল না।
সুতরাং, ইরাক-কুয়েত ও আমেরিকা-ইরাকের ঘটনা এবং মাৎস্যন্যায় দুই ক্ষেত্রেই শক্তির প্রাধান্য ও ন্যায়ের অভাব দেখা যায়; তাই প্রবাদটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও