হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

বিমল খুবই ভালো ছাত্র ছিল। সে অসৎ সঙ্গে মিশে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। তার বাবা-মা অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে তাকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে দেন। অন্যদিকে, প্রতিম অন্যের দোকানে ম্যানেজার হয়ে প্রত্যেক দিন অনেক টাকা-পয়সার লেনদেন করে। মালিক সরল বিশ্বাসে তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন বিধায় সেও বিশ্বাসের অমর্যাদা করেনি।

  1. ক)

    ধর্মপথ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ইন্দ্রিয়কে কীভাবে বশীভূত করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    বিমলের এই অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় তোমার পাঠের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রতিমের বিশ্বাস "সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা"- পঠিত বিষয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে পথে চললে নিজের মোক্ষলাভ এবং জীব ও জগতের কল্যাণ সাধন হয়, সেই পথই ধর্মপথ। অন্যভাবে, ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ অনুসরণ করে জীবনযাপনের পথকেই ধর্মপথ বলে।

  2. খ)

    ইন্দ্রিয়কে বশীভূত করা যায় আত্মসংযম, ধার্মিকতা ও যোগসাধনার মাধ্যমে। ইন্দ্রিয়গুলো সবসময় পরিতৃপ্ত হতে চায়। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করলে মানুষ বিপথগামী হয়। ধার্মিক ব্যক্তি এই প্রবৃত্তিগুলো দমন করেন এবং ইন্দ্রিয়কে নিজের ইচ্ছামতো চালান। যোগের অঙ্গ প্রত্যাহারেও ইন্দ্রিয়কে বাইরের বিষয় থেকে ফিরিয়ে অন্তর্মুখী করা হয়।

  3. গ)

    বিমলের অবস্থা হলো মাদকাসক্তি। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় আছে।

    মাদক গ্রহণ অনৈতিক ও অধর্মের পথ। এটি মাদক গ্রহণকারীর স্বাভাবিক চেতনা বিমূঢ় করে দেয়, বিবেকবুদ্ধি লোপ পায় এবং মস্তিষ্কবিকৃতি পর্যন্ত ঘটতে পারে। এ থেকে পরিবার ও সমাজের বন্ধন শিথিল হয়। উদ্দীপকে বিমল ভালো ছাত্র হয়েও অসৎ সঙ্গে মিশে মাদকাসক্ত হয়েছে।

    প্রতিকার :
    ১. মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা পারিবারিক কর্তব্য। বিমলের বাবা-মা তাকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছেন, যা চিকিৎসার একটি উপায়।
    ২. তাকে শাসন না করে সচেতন করতে হবে এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। 'আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়', অর্থাৎ নিজে আদর্শ হয়ে দৃষ্টান্ত দেখাতে হবে।

    প্রতিরোধ :
    ১. পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। সন্তানদের জানাতে হবে, দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম আছেন, তাই দেহ ঈশ্বরের মন্দির, একে অপবিত্র করা যাবে না।
    ২. সন্তানের দৈনন্দিন জীবন ও বন্ধুদের দিকে নজর রাখতে হবে, কারণ মাদকাসক্তের সঙ্গ করলেও পাপ স্পর্শ করে।
    ৩. সবাই অঙ্গীকার করবে, 'ধূমপান মাদকগ্রহণ অধর্মের পথ, চালাব না সে পাপপথে আমার জীবনরথ।'

    এভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক সচেতনতার মাধ্যমে বিমলের মতো অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্ভব।

  4. ঘ)

    প্রতিমের বিশ্বাস, 'সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা', পাঠ্যবইয়ের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ। মিথ্যা ও অসততার ফল কখনো ভালো হয় না, আর সততার ফল সবসময় শুভ।

    পাঠ্যবইয়ের 'গরিব কাঠুরিয়ার সততা' উপাখ্যানে দেখা যায়, কাঠুরিয়া দরিদ্র হয়েও সোনা ও রুপার কুঠারকে নিজের বলে দাবি করেননি। তিনি ভেবেছিলেন, তাতে ধর্ম নষ্ট হবে এবং তিনি অসৎ হয়ে যাবেন। ফলে জলদেবী মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সোনা ও রুপার কুঠার দিয়ে দেন। অন্যদিকে লোভী মোড়ল মিথ্যা বলে সোনার কুঠারও পাননি, নিজের কুঠারও হারিয়েছেন।

    ১. বিশ্বাসের মর্যাদা : প্রতিম অন্যের দোকানে ম্যানেজার, প্রতিদিন অনেক টাকা-পয়সা লেনদেন করে। মালিক সরল বিশ্বাসে তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রতিম তাঁর বিশ্বাসের অমর্যাদা করেনি। কাঠুরিয়ার মতোই সে লোভ জয় করেছে। এ গুণ ধর্মের লক্ষণ অস্তেয় ও সত্যের প্রকাশ।

    ২. সততার পুরস্কার : কাঠুরিয়া সততার ফলে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছেন। প্রতিমও মালিকের আস্থা ও সম্মান পাবে এবং কর্মজীবনে উন্নতি করবে।

    ৩. অসততার পরিণতি : পাঠ্যবইয়ে অধার্মিকের পরিণতি হলো অতৃপ্তি, দণ্ড ও পাপ। উদ্দীপকে বিমল অসৎ সঙ্গে মিশে মাদকাসক্ত হয়েছে এবং তার জীবন ও পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ তুলনায় প্রতিম আদর্শ।

    ৪. সামাজিক গুরুত্ব : সৎ মানুষকে সবাই বিশ্বাস করে। সততা সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

    সুতরাং প্রতিমের বিশ্বাস পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ। সততাই ধর্মপথ ও আদর্শ জীবনের প্রকৃষ্ট উপায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন