ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন

সোনালী কোং লি. সাধারণ শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে। প্রতিষ্ঠানটি বছর শেষে মুনাফার সম্পূর্ণ অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করে কিছু অংশ প্রতিষ্ঠানে রেখে দেয়। বর্তমান বছরে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারপ্রতি ১৫ টাকা হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করে এবং আগামী বছরগুলোতে এই লভ্যাংশ ৭% হারে বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করে। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য ১৩৫ টাকা।

  1. ক)

    শেয়ার বাজারের সার্বিক অবস্থা বোঝার জন্য কী ব্যবহার করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    কোন ধরনের লভ্যাংশ প্রদান করলে কোম্পানির শেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    "সোনালী কোং লি."-এর সাধারণ শেয়ারের মূলধন ব্যয় বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার সম্পূর্ণ অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    শেয়ার বাজারের সার্বিক অবস্থা বোঝার জন্য শেয়ার সূচক (Share Index) ব্যবহার করা হয়।

  2. খ)

    বোনাস শেয়ার (Stock Dividend) প্রদান করলে কোম্পানির শেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

    নগদ অর্থের পরিবর্তে কোম্পানি যখন বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার অনুপাতে নতুন শেয়ার বিনামূল্যে প্রদান করে, তখন তাকে বোনাস শেয়ার বা শেয়ার লভ্যাংশ বলে। এতে কোম্পানির নগদ অর্থ বের হয় না, কিন্তু প্রচলিত শেয়ারের সংখ্যা বাড়ে। যেমন ১০টি শেয়ারের বিপরীতে ১টি বোনাস শেয়ার দিলে ১০০টি শেয়ার হবে ১১০টি।

  3. গ)

    সাধারণ শেয়ারের মূলধন ব্যয় হলো সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশিত আয়ের হার। লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার থাকলে এটি নির্ণয়ের সূত্র:

    Ke=D1P0+g,D1=D0(1+g)K_e = \frac{D_1}{P_0} + g, \quad D_1 = D_0(1+g)

    এখানে চলতি বছরের লভ্যাংশ D0=১৫D_0 = ১৫ টাকা, বৃদ্ধির হার g=৭%=0.07g = ৭\% = 0.07, বাজারমূল্য P0=১৩৫P_0 = ১৩৫ টাকা।

    ১. আগামী বছরের লভ্যাংশ D1=15×1.07=16.05D_1 = 15 \times 1.07 = 16.05 টাকা
    ২. Ke=16.05135+0.07=0.1189+0.07=0.1889K_e = \frac{16.05}{135} + 0.07 = 0.1189 + 0.07 = 0.1889

    অতএব সোনালী কোং লি.-এর সাধারণ শেয়ারের মূলধন ব্যয় ১৮.৮৯%।

  4. ঘ)

    মুনাফার একটি অংশ বণ্টন না করে সংরক্ষণ করা (সঞ্চিতি) সোনালী কোং লি.-এর জন্য যৌক্তিক বলে মনে হয়।

    ১. সস্তা অভ্যন্তরীণ তহবিল: সংরক্ষিত মুনাফা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল। নতুন শেয়ার বা ঋণের মতো ইস্যু খরচ ও সুদের বোঝা নেই।
    ২. সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ: সংরক্ষিত অর্থ দিয়ে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে আয় ও লভ্যাংশ বাড়ে। প্রতিষ্ঠানটি ৭% হারে লভ্যাংশ বৃদ্ধি প্রত্যাশা করছে, যা এই পুনর্বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল।
    ৩. নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক নিরাপত্তা: বাইরে থেকে মূলধন সংগ্রহ না করায় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং মন্দা বা ক্ষতির সময়ের জন্য একটি সঞ্চিত তহবিল থাকে।

    তবে বেশি সংরক্ষণ করলে শেয়ারহোল্ডারদের বর্তমান আয় কমে যায়। সুতরাং, সংরক্ষিত মুনাফা লাভজনক খাতে বিনিয়োগ হলে এবং লভ্যাংশ নিয়মিত বাড়লে মুনাফার সম্পূর্ণ অংশ বণ্টন না করার সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন