হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
রবেন বাবু সাধনায় সফলতা লাভ করার পর লোকের দেখাশোনা ও শিক্ষার উন্নতির জন্য কাজ করেন। তিনি লোক সেবার জন্য আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে লোক সেবার ভূমিকা পালন করেন। তাঁকে "রণে বনে জঙ্গলে" যেখানে স্মরণ করা হয়, সেখানে তিনি আমাদের রক্ষা করেন। অন্যদিকে অমল বাবু মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে সনাতন ধর্মের উন্নতিকল্পে সংস্কারের প্রয়োজনবোধ করেন। বিজ্ঞানসম্মত কাজের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। যুক্তি ছাড়া কাজ করলে ধর্মের ক্ষতি হতে পারে জেনে ধর্মের ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত কাজ করেন।
- ক)(1)
অহিংসা কাকে বলে?
- খ)(2)
মতুয়া ধর্মের উদ্ভব হলো কীভাবে?
- গ)(3)
রবেন বাবু কোন মনীষীর প্রতিনিধিত্ব করছেন তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অমল বাবু কোন যুক্তিবাদী সংস্কারের ইঙ্গিত বহন করছে? বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে তাঁর কাজের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কায়মনোবাক্যে অর্থাৎ মন, কথা ও কর্ম দ্বারা কোনো প্রাণীকে কষ্ট না দেওয়াকে অহিংসা বলে।
- খ)
ঠাকুর হরিচাঁদ ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে আবির্ভূত হয়ে হিন্দু সমাজে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে এক হরিনামে মেতে থাকার আহ্বান জানান।
তাঁর এই ধর্মনীতি থেকেই মতুয়া ধর্মের উদ্ভব। এ ধর্মের মূলমন্ত্র হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হরিনামে মেতে থাকা। বিশ্বাস করা হয়, হরিনামই জগতে কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ।
- গ)
রবেন বাবু বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী মনীষীর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর পরিচয়: পাঠ্যবই অনুযায়ী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী সাধনায় সিদ্ধি লাভ করার পরও লোকসেবা ও লোকশিক্ষার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে নেমে এসেছিলেন। তিনি বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার বারদীতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে জনগণের সেবা করেন। সততা, নিষ্ঠা, সংযম, সাম্য ও সেবা ছিল তাঁর নৈতিক আদর্শের মূলমন্ত্র। তিনি প্রচলিত অর্থে গুরুগিরি করেননি, কিন্তু একজন লোকশিক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর সান্নিধ্যে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা তাঁকে গুরুই বিবেচনা করতেন।
উদ্দীপকের সাথে মিল: উদ্দীপকে রবেন বাবু সাধনায় সফলতা লাভের পর মানুষের দেখাশোনা ও শিক্ষার উন্নতির জন্য কাজ করেন এবং লোকসেবার জন্য আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। এটি লোকনাথের সাধনা-পরবর্তী লোকসেবা ও বারদীতে আশ্রম স্থাপনের সাথে হুবহু মেলে। এছাড়া 'রণে বনে জঙ্গলে' স্মরণ করলে রক্ষা করার যে বিশ্বাস লোকনাথকে ঘিরে প্রচলিত আছে, উদ্দীপকে রবেন বাবুর বর্ণনায়ও তা এসেছে।
অতএব, রবেন বাবু বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
- ঘ)
উদ্দীপকের অমল বাবু সনাতন ধর্মের উন্নতির জন্য সংস্কারের প্রয়োজন অনুভব করেন, বিজ্ঞানসম্মত কাজে আগ্রহী হন এবং বিশ্বাস করেন যে যুক্তি ছাড়া কাজ করলে ধর্মের ক্ষতি হতে পারে। তাঁর এ চিন্তা রাজা রামমোহন রায়ের যুক্তিবাদী সংস্কারের ইঙ্গিত বহন করে। বর্তমান সমাজে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
পাঠ্যবই অনুযায়ী ঊনবিংশ শতকে বিজ্ঞানমনস্ক সুধীজন মনে করেন, যুক্তিসংগত নির্দেশ ছাড়া সামাজিক আচার-আচরণে যেসব ধর্মীয় বিধি-বিধান প্রচলিত, তা সংস্কারের প্রয়োজন। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, 'যুক্তিহীনবিচারেণ ধর্মহানিঃ প্রজায়তে', অর্থাৎ যুক্তিহীন বিচারে ধর্মের ক্ষতি হয়। রামমোহন রায় দেখলেন, বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক হয়ে হিন্দুরা ক্ষুদ্র গোষ্ঠিচিন্তায় বিভক্ত হয়ে পড়ছে। তিনি এক ব্রহ্মের উপাসনার আহ্বান জানিয়ে ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন।
১. ঐক্য ও সম্প্রীতি: রামমোহন সব উপাস্যকে এক ব্রহ্মের প্রকাশ বলে প্রচার করে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। আজকের বিভক্ত সমাজে এ ঐক্যের শিক্ষা সম্প্রীতি রক্ষায় সহায়ক।
২. যুক্তি ও বিজ্ঞানমনস্কতা: অমল বাবুর মতো যুক্তি ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি ধর্মীয় আচারকে অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত রাখে। প্রযুক্তির যুগে এটি ধর্মকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
৩. যুগোপযোগী ধর্মচর্চা: মানব সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে ধর্মের অযৌক্তিক বিধান সংস্কার করলে ধর্ম সমাজের কল্যাণে আরও কার্যকর হয়।
৪. সমন্বয়ের পথ: রামমোহনের একেশ্বরবাদী চেতনা এবং পরবর্তীকালে রামকৃষ্ণের 'যত মত, তত পথ' আদর্শ মিলে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সমন্বয়ের ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে সাধারণ মানুষ প্রচলিত পূজা-পার্বণ ছাড়তে পারেনি, তাই সংস্কার ধীরে ও সচেতনতার সাথে হওয়া প্রয়োজন।
সুতরাং, রামমোহন রায়ের মতো যুক্তিবাদী সংস্কার-চেতনা বর্তমান সমাজেও ধর্মীয় ঐক্য, বিজ্ঞানমনস্কতা ও প্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও