হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
শিক্ষক শিমুল বাবু হিন্দুধর্ম ক্লাসে ধর্ম ও অধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ধর্মের বিশেষ ও সাধারণ লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করে ক্লাস শেষ করেন। অন্যদিকে, দীপক সৎ ও ন্যায়পরায়ণ। সে পিতার সকল কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। সে কোনো কিছু ত্যাগ করতে দ্বিধাবোধ করে না। অন্যের সুখের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। সবসময় সকলের মঙ্গল কামনা করে।
- ক)(1)
মহাভারত রচনা করেন কে?
- খ)(2)
উপনিষদকে রহস্যবিদ্যা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
শিক্ষক শিমুল বাবু হিন্দুধর্ম ক্লাসে যে বিষয়ের আলোচনা করেন তা তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দীপকের মধ্যে পিতার আদেশ পালনের জন্য পাঠ্যপুস্তকের 'মূল্যবোধ ও নৈতিকতা' গঠনের যে কাহিনি বর্ণিত আছে তার শিক্ষা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মহাভারত রচনা করেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
- খ)
উপনিষদকে রহস্যবিদ্যা বলা হয় কারণ এতে জন্ম-মৃত্যুর কারণ ও ব্রহ্মতত্ত্বের মতো গুহ্য বিষয় আলোচিত হয়েছে।
ব্রহ্মবিদ্যা গুহ্যতম বিদ্যা। জন্ম আর মৃত্যু মানুষের কাছে এক বিরাট রহস্য, আর উপনিষদ সেই রহস্যের উত্তর খোঁজে। গুরুর নিকট উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধার সাথে এ বিদ্যা লাভ করতে হয় এবং যাঁরা ব্রহ্মনিষ্ঠ, কেবল তাঁরাই এর তত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারেন। তাই একে রহস্যবিদ্যা বলা হয়। - গ)
শিক্ষক শিমুল বাবু হিন্দুধর্ম ক্লাসে ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের বিষয়ে আলোচনা করেছেন, বিশেষ করে ধর্মের বিশেষ ও সাধারণ লক্ষণ।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়: কোনটি ধর্ম আর কোনটি অধর্ম, তা নির্ণয়ের জন্য চারটি প্রমাণ আছে: বেদ (প্রথম), স্মৃতিশাস্ত্র (দ্বিতীয়), সদাচার (তৃতীয়) ও বিবেক (চতুর্থ)। বেদ ও স্মৃতি থেকে বাস্তবসম্মত উপদেশ না মিললে মহাপুরুষদের আচরণ বা সদাচার অনুসরণ করতে হয়। তাতেও সমাধান না হলে নিজের বিবেক ও কর্তব্য-অকর্তব্যের জ্ঞান কাজে লাগাতে হয়। এগুলো ধর্মের বিশেষ লক্ষণ।
সাধারণ লক্ষণ: ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ হলো ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয়-নিগ্রহ, সত্য, ধী, বিদ্যা ও অক্রোধ। যিনি এই লক্ষণগুলো নিজ জীবনে অনুসরণ করেন, তিনিই ধার্মিক।
উদ্দীপকের সাথে মিল: শিমুল বাবু ধর্ম ও অধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ধর্মের বিশেষ ও সাধারণ লক্ষণ ব্যাখ্যা করেছেন, যা পাঠ্যবইয়ের 'ধর্মপথ'-এর বিষয়।
- ঘ)
উদ্দীপকের দীপক পিতার সকল আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। পাঠ্যবইয়ের 'মূল্যবোধ ও নৈতিকতা' গঠনের কাহিনি রামায়ণে রামচন্দ্রের পিতৃসত্য পালন, যা দীপকের আচরণের সাথে মেলে।
রামায়ণে রয়েছে পিতার প্রতি পুত্রের কর্তব্যের কথা। রাজা দশরথের সত্যরক্ষা করতে রাম রাজত্ব ত্যাগ করে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। তাঁর সাথে সীতা ও লক্ষ্মণও যান।
১. পিতার আদেশ পালন: রাম পিতার আদেশ ও সত্য রক্ষাকে নিজের সুখের ওপরে স্থান দিয়েছেন। দীপকও পিতার সকল কথা পালন করে। এ থেকে শেখা যায়, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য পালন ধর্ম।
২. ত্যাগের মানসিকতা: রাম রাজ্য ও রাজসুখ ত্যাগ করেছেন। দীপকও কোনো কিছু ত্যাগ করতে দ্বিধা করে না এবং অন্যের সুখের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়।
৩. সত্য ও ন্যায়ের প্রতি নিষ্ঠা: দশরথের সত্য রক্ষায় রামের আত্মত্যাগ সত্যনিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। দীপক সৎ ও ন্যায়পরায়ণ।
৪. ভ্রাতৃপ্রেম ও পতিপ্রেম: লক্ষ্মণের ভ্রাতৃপ্রেম এবং সীতার পতিপ্রেম দেখে আমরা পারিবারিক বন্ধনের মূল্য বুঝি।সুতরাং, রামায়ণের এই কাহিনি আমাদের পিতামাতার প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ, সত্যনিষ্ঠা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে অনুপ্রাণিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও