বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৬

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

গীতিকার তৌহিদুল ইসলাম একজন বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। বই পড়ার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার নিজ বাড়িতে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। আশে-পাশের মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকেন। এ মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ‘প্রথম আলো’ পত্রিকা তাঁকে জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক সম্মাননা প্রদান করেন। রংপুর বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক ড. হারুনুর রশিদ তাঁর গ্রন্থাগারে অনুদানস্বরূপ বিভিন্ন ধরনের বই দিয়েছেন। তাঁরই একজন স্বজন রহিম বলেন, “শুধু বই কিনে অর্থের অপচয় করার কোনো সার্থকতা নেই। বরং স্কুল কলেজের নির্ধারিত পাঠ্যবই পড়লেই আলোকিত সমাজ গড়া সম্ভব।”

  1. ক)

    কীসের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের দেহ বাঁচে না?

    (1)
  2. খ)

    ‘সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।’—বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহিমের মনোভাব ‘বইপড়া’ প্রবন্ধের কোন দিক ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের গীতিকার তৌহিদুল ইসলামের প্রচেষ্টাই ‘বইপড়া’ প্রবন্ধের মূলসুর”—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অন্নের (দেহের) দাবি রক্ষা না করলে মানুষের দেহ বাঁচে না।

  2. খ)

    প্রবন্ধিকের মতে, শিক্ষক ছাত্রকে শিক্ষা দিতে পারেন না, তিনি কেবল শিক্ষার পথ দেখান ও আগ্রহ জাগান। প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে হয় নিজের চেষ্টায়, নিজের পড়াশোনা ও চিন্তায়। যে নিজের উদ্যোগে জ্ঞান অর্জন করে, সেই প্রকৃত শিক্ষিত হয়। তাই বলা হয়েছে, সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।

  3. গ)

    উদ্দীপকে রহিম বলেছেন, শুধু পাঠ্যবই পড়লেই আলোকিত সমাজ গড়া যায়, অন্য বই কেনা অর্থের অপচয়। এ মনোভাব 'বইপড়া' প্রবন্ধের সংকীর্ণ ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার দিক এবং বই পড়ার প্রতি অনীহা প্রকাশ করে।

    প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জ্ঞানের আনন্দে ও স্বশিক্ষার জন্য বই পড়া জরুরি। পাঠ্যবই শুধু নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে শিক্ষা দেয়। তাই সাহিত্য ও জ্ঞানের অন্যান্য বই না পড়লে মনের পুষ্টি হয় না। রহিমের মনোভাব এ উপলব্ধির বিপরীত।

  4. ঘ)

    আমি মন্তব্যটির সঙ্গে একমত।

    ১. গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা: তৌহিদুল ইসলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজ বাড়িতে গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছেন, যাতে মানুষ বই পড়ার সুযোগ পায়। প্রবন্ধেও বই পড়াকে জাতীয় জীবনের জন্য জরুরি বলা হয়েছে।
    ২. জ্ঞানের আলো ছড়ানো: তিনি আশপাশের মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে চেষ্টা করেন। প্রবন্ধেও বই পড়ার মাধ্যমে মনের বিকাশ ও জ্ঞান অর্জনের কথা বলা হয়েছে।
    ৩. পড়ার প্রতি আগ্রহ: তাঁর বই পড়ার প্রবল আগ্রহ প্রবন্ধের স্বশিক্ষা ও বইপ্রীতির আদর্শের সঙ্গে মেলে।

    সুতরাং, তৌহিদুল ইসলামের প্রচেষ্টা 'বইপড়া' প্রবন্ধের মূলসুর বই পড়ার গুরুত্ব ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলাকে ধারণ করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন