বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্য-১: উনিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলায় 'ক' নামক এমন একজন ব্যস্তির আবির্ভাব ঘটে যিনি গরীব হলেও তার প্রজ্ঞা, তেজস্বিতা, মমত্ববোধ, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারেবিশেষ ভূমিকা পালন করেন।দৃশ্য-২: নারীদের শিক্ষিত করে তুলতে, ফাইমিনা বানু একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সবাইকে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে তিনি অনেক বই ও প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।

  1. ক)

    ইতিহাসে ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন কী?

    (1)
  2. খ)

    মহসীন ফান্ডের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্য-১ এর ব্যস্তির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মহান ব্যস্তির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্য-২ এর ফাইমিনা বানুর সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে সংস্কারকের মিল রয়েছে তার কর্মকাণ্ড বর্তমান নারী শিক্ষার অবদানে অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে ইংরেজ কোম্পানির শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ফকির ও সন্ন্যাসীরা যে সশস্ত্র সংগ্রাম করেছিলেন, ইতিহাসে তা ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন নামে পরিচিত।

  2. খ)

    হাজী মুহম্মদ মুহসীন তাঁর বিপুল সম্পত্তি জনহিতকর কাজের জন্য ওয়াকফ করে যান, যা মুহসীন ফান্ড নামে পরিচিত।

    এই ফান্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে সাহায্য করা এবং শিক্ষার প্রসারে ব্যয় করা। পরবর্তীকালে এ তহবিলের অর্থে বিশেষ করে মুসলমান ছাত্রদের শিক্ষার জন্য বৃত্তি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সহায়তা করা হয়েছে।

  3. গ)

    দৃশ্য-১-এর ব্যক্তির সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মিল রয়েছে।

    বিদ্যাসাগর উনিশ শতকের বাংলায় একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজের প্রজ্ঞা ও মেধায় প্রখ্যাত হন। তিনি ছিলেন তেজস্বী ও করুণাময় মানুষ, তাই তাঁকে ‘দয়ার সাগর’ বলা হতো। শিক্ষাবিস্তার ও সমাজ সংস্কারে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিধবাবিবাহ প্রচলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন এবং বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। উদ্দীপকের ‘ক’-এর বৈশিষ্ট্যগুলোর সঙ্গে এসব বৈশিষ্ট্য মিলে যায়।

  4. ঘ)

    দৃশ্য-২-এর ফাইমিনা বানু নারী শিক্ষার জন্য বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন এবং বই ও প্রবন্ধ লিখে সবাইকে সচেতন করেছেন। এর সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের মিল আছে।

    ১. তিনি ১৯১১ সালে কলকাতায় ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করে মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেন।
    ২. ‘মতিচূর’, ‘সুলতানার স্বপ্ন’, ‘অবরোধবাসিনী’ প্রভৃতি রচনার মাধ্যমে তিনি নারীর শিক্ষা, অধিকার ও অবরোধপ্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন।
    ৩. ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ গঠন করে নারীদের সংগঠিত করেন।

    সুতরাং, রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের ফলেই নারী শিক্ষার পথ প্রশস্ত হয়েছে, বর্তমান নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন