পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
ঘটনা-১: ১৯৮৯ সালে তিউনিসিয়ার জনগণ দুই দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা প্রেসিডেন্ট জাইন আল আবেদিন এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে যা, পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।ঘটনা-২: মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালের ১৯শে নভেম্বর গেটিসবার্গে একটি বিখ্যাত ভাষণ প্রদান করেছিলেন। এই ভাষণে তিনি দীপ্ত কণ্ঠে ক্রীতদাসদের স্বাধীনতার কথা ঘোষণা করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে ১৮৬৫ সালে মার্কিন গৃহযুদ্ধের অবসানকে ত্বরান্বিত করেছিল।
- ক)(1)
অভিশংসন কী?
- খ)(2)
দ্বি-জাতি তত্ত্ব কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
১ম ঘটনার উল্লিখিত আন্দোলনের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষণের সাথে আমাদের যে ঐতিহাসিক ভাষণের মিল খুঁজে পাওয়া যায় তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে পদ থেকে অপসারণের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়াকে অভিশংসন (Impeachment) বলে।
- খ)
দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো এই ধারণা যে, ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু ও মুসলমান দুটি আলাদা জাতি।
এই তত্ত্ব অনুযায়ী ধর্ম, সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, ইতিহাস ও জীবনদর্শনে দুই সম্প্রদায় ভিন্ন, তাই তারা এক জাতি হতে পারে না। মুসলিম লীগ নেতারা এ তত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবি তোলেন, যার ফলে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়।
- গ)
উদ্দীপকের ১ম ঘটনায় তিউনিসিয়ার জনগণ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে, যা পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সাদৃশ্য রয়েছে।
১. দুটি আন্দোলনই স্বৈরাচারী ও দীর্ঘদিন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা শাসকের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল।
২. ছাত্র-জনতা সবশ্রেণির মানুষ আন্দোলনে যোগ দেয় এবং শুরুর আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
৩. জনগণের চাপে স্বৈরশাসকের পতন ঘটে। ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।
এভাবে দুটি আন্দোলনেই জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে।
- ঘ)
উদ্দীপকে লিংকনের গেটিসবার্গ ভাষণ বর্ণিত হয়েছে, যার সাথে আমাদের ঐতিহাসিক ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মিল রয়েছে। লিংকনের ভাষণ যেমন ক্রীতদাসদের স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়েছিল, তেমনি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাঙালির স্বাধীনতার আহ্বান ছিল। এ ভাষণের তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মুক্তির আহ্বান: ভাষণে তিনি বলেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" এটি বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হতে উদ্দীপ্ত করেছিল।
২. ঐক্য ও প্রস্তুতির নির্দেশনা: তিনি জনগণকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে যার যা আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে বলেন। ফলে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি হয়।
৩. পরোক্ষ স্বাধীনতার ঘোষণা: এ ভাষণের পর স্বাধীনতা সংগ্রাম অনিবার্য হয়ে ওঠে এবং আন্দোলন সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে এগোয়।
৪. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এ ভাষণকে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সুতরাং, ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার পথে চালিত করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ও অসাধারণ তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও