হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
কমল গ্রামের দরিদ্র মেয়েদের শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সাহায্য করেন। তিনি মনে করেন, মেয়েদের শিক্ষিত করতে পারলে দরিদ্রতা দূর হবে এবং দেশ উন্নত হবে। অপরদিকে, মিনু দেবীর লেখাপড়া ও অন্য কিছুর প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না। তিনি প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
- ক)(1)
পূর্ণাবতার কাকে বলে?
- খ)(2)
চরক শরীরের কার্যকারিতার কয়টি উপাদানের কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
কমলের মধ্যে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মহাপুরুষের গুণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মিনু দেবীর চরিত্রটি নৈতিক জীবন গঠনে কতটুকু সহায়ক তা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন, তাঁকে পূর্ণাবতার বলে। ভগবানের সমস্ত শক্তি ও গুণ পূর্ণাবতারের মধ্যে থাকে। শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণাবতার।
- খ)
চরক শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি উপাদানের কথা বলেছেন। এগুলোকে 'দোষ' বলা হয়। উপাদান তিনটি হলো বাত, পিত্ত ও কফ। এই তিনটির সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয় এবং সামঞ্জস্য ফিরে এলে শরীর সুস্থ হয়। তাই এই তিনটির ভারসাম্য রক্ষা করাই সুস্থ থাকার মূল কথা।
- গ)
কমলের মধ্যে পাঠ্যবইয়ের মহাপুরুষ স্বামী বিবেকানন্দের গুণ প্রকাশ পেয়েছে।
স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন নারী-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। নারীশিক্ষাকে তিনি সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করতেন। বৈদিক যুগের মৈত্রেয়ী, গার্গীর মতো বিদুষী নারীদের উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তখনকার নারীরা এত শিক্ষা পেলে এ যুগের নারীরা কেন পারবে না। তাঁর মতে, নারীদের উন্নতি না করে বিশ্বের মঙ্গল সাধন সম্ভব নয়, একটি ডানায় পাখি উড়তে পারে না। তিনি দরিদ্রদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারেও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে কমল গ্রামের দরিদ্র মেয়েদের শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আর্থিক সাহায্য করেন। তিনি মনে করেন, মেয়েদের শিক্ষিত করলে দরিদ্রতা দূর হবে এবং দেশ উন্নত হবে। এটি বিবেকানন্দের নারীশিক্ষা ও দরিদ্রের শিক্ষা বিস্তারের আদর্শের সাথে মেলে। তিনি জীবসেবাকেও ঈশ্বরসেবা মনে করতেন, কমলের সাহায্যে সেই সেবাই প্রকাশিত।
অতএব কমলের মধ্যে বিবেকানন্দের শিক্ষাবিস্তার ও নারী-উন্নয়ন ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
উদ্দীপকের মিনু দেবীর চরিত্রটি পাঠ্যবইয়ের শ্রীমার জীবনের প্রথম দিকের সাথে মেলে। শ্রীমারও পড়াশোনায় আগ্রহ ছিল না এবং তিনি প্রকৃতির সান্নিধ্য ভালোবাসতেন। আমার মতে, নৈতিক জীবন গঠনে এই চরিত্র আংশিক সহায়ক। সাথে শিক্ষা ও সেবা যুক্ত না হলে এটি পূর্ণ আদর্শ হয় না।
পাঠ্যবইয়ে আছে, শৈশব থেকেই শ্রীমার মধ্যে আধ্যাত্মিক ভাব ছিল। চার বছর বয়সে ধ্যানমগ্ন হতেন, পড়াশোনায় আগ্রহ ছিল না। প্যারিসের বনে গাছতলায় ধ্যানে বসলে পাখি ও কাঠবিড়ালি তাঁর কাছে নির্ভয়ে আসত। এভাবে গাছপালা ও পশুপাখির সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সহায়ক দিক :
১. প্রকৃতিপ্রেম ও জীবের প্রতি ভালোবাসা : প্রকৃতির সাথে সময় কাটালে মন শান্ত ও পবিত্র হয়, জীবের প্রতি মমতা জন্মায়। শ্রীমা আশ্রমের গাছ ও পশুপাখিকে ভালোবাসতেন এবং কাউকে গাছের পাতা বা ফুল ছিঁড়তে দিতেন না।
২. ঈশ্বরচিন্তা ও সংযম : মিনু দেবী প্রকৃতিতে ঈশ্বরের উপলব্ধি করতে পারেন। এতে লোভ-মোহ থেকে মুক্ত থাকা সহজ হয়।সীমাবদ্ধতা :
১. শিক্ষা ও সেবার অভাব : মিনু দেবীর লেখাপড়া বা অন্য কিছুর প্রতি আগ্রহ নেই। শিক্ষা ছাড়া সমাজের উন্নয়ন হয় না। শ্রীমা পরে শিক্ষা কেন্দ্র, হাসপাতাল ও আশ্রম গড়ে সেবাকে জীবনের ব্রত করেছিলেন।
২. কর্মের গুরুত্ব : শ্রীমা আজীবন নিষ্কাম কর্ম করেছেন। শুধু প্রকৃতি ও ধ্যানে সীমাবদ্ধ থাকলে সমাজ ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন হয় না।সুতরাং মিনু দেবীর প্রকৃতিপ্রেম নৈতিক জীবনে সহায়ক, কিন্তু শিক্ষা, সেবা ও কর্মের সমন্বয় ছাড়া তা পরিপূর্ণ নৈতিক জীবন গড়তে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও