হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

নিখিল বাবু প্রতিদিন বিকেলে এক ঘণ্টা করে হাঁটেন। তার ছেলে-মেয়ে দুইটি যেন প্রতিদিন বিকেলে খেলাধুলা করতে পারে সে ব্যাপারে খুব সচেতন থাকেন। এজন্য তিনি খেলার যাবতীয় উপকরণ কিনে দেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী লিপি দেবী সংসারের কাজের পাশাপাশি বাড়ির চারপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখেন। বাড়ির চারপাশে এবং উঠানের চারদিকে নানা রকমের ফুল গাছের চারা রোপণ করেন। বাড়িটি দেখলে মনে হয় একটি স্বর্গপুরী।

  1. ক)

    শ্রীমার প্রকৃত নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    শ্রীমার পড়াশোনা বেশিদূর এগোয়নি কেন? বুঝিয়ে লেখ?

    (2)
  3. গ)

    নিখিল বাবুর মধ্যে শ্রীমার কোন গুণটি লক্ষ করা যায়? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    লিপি দেবীর কাজটি শ্রীমার কাজের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    শ্রীমার প্রকৃত নাম মীরা।

  2. খ)

    শৈশব থেকেই শ্রীমার মধ্যে আধ্যাত্মিক ভাব জেগে উঠেছিল। চার বছর বয়সেই তিনি মাঝে মাঝে ধ্যানমগ্ন হয়ে পড়তেন। পড়াশোনা বা পার্থিব কোনো কিছুর প্রতিই তাঁর আসক্তি ছিল না। তিনি শুধু ঈশ্বরচিন্তা করতেন এবং আধ্যাত্মিক ভাবনায় মগ্ন থাকতেন। সময় পেলেই তিনি বনে গিয়ে গাছতলায় ধ্যানে বসতেন। এ কারণেই তাঁর পড়াশোনা বেশিদূর এগোয়নি।

  3. গ)

    নিখিল বাবুর মধ্যে শ্রীমার শরীরচর্চা ও সুস্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতার গুণ লক্ষ করা যায়।

    শ্রীমার গুণ: শ্রীমা বুঝতে পেরেছিলেন, আধ্যাত্মিক সাধনা করতে হলে শরীরকে সুস্থ রাখতে হয়। এজন্য যোগব্যায়াম প্রয়োজন। তাই তিনি অরবিন্দ আশ্রমে একটি ব্যায়ামাগার গড়ে তুলেছিলেন। তিনি নিজেও যোগসাধনা করতেন। আশ্রমের শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি বিদ্যালয়ও গড়েছিলেন, যেখানে সবার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ব্যবস্থা ছিল।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: নিখিল বাবু প্রতিদিন বিকেলে এক ঘণ্টা হাঁটেন। তিনি তাঁর ছেলে-মেয়ে দুজন যেন প্রতিদিন খেলাধুলা করতে পারে সে ব্যাপারে সচেতন থাকেন এবং এজন্য খেলার সব উপকরণ কিনে দেন। এটি শ্রীমার ব্যায়ামাগার গড়ে তোলার মতো শরীরচর্চা ও সুস্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার মনোভাবের সঙ্গে মিলে যায়।

    অতএব, নিখিল বাবুর মধ্যে শ্রীমার শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্য-সচেতনতার গুণটি প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    লিপি দেবীর কাজ শ্রীমার প্রকৃতিপ্রেম ও সৌন্দর্যবোধের কাজের আলোকে যথার্থ ও প্রশংসনীয়।

    শ্রীমার কাজ: শ্রীমার মধ্যে প্রচণ্ড সৌন্দর্যবোধ ছিল। তিনি বহিঃপ্রকৃতি ও অন্তঃপ্রকৃতির মধ্যে সামঞ্জস্য সাধন করে চলতেন। তিনি চাইতেন মানুষের অন্তঃপ্রকৃতিও বাইরের প্রকৃতির মতো সুন্দর হয়ে উঠুক। তাই তিনি আশ্রমটিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিরূপে গড়ে তুলেছিলেন। আশ্রমের বাগান ও গাছপালার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ছিল; কেউ যেন গাছের পাতা বা ফুল না ছেঁড়ে বা অকারণে ডাল না ভাঙে—এ নির্দেশ তিনি দিতেন।

    ১. পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য: লিপি দেবী সংসারের কাজের পাশাপাশি বাড়ির চারপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখেন। এটি শ্রীমার পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ রচনার আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
    ২. বৃক্ষরোপণ ও প্রকৃতিপ্রীতি: তিনি বাড়ির চারপাশে ও উঠানে নানা রকম ফুলগাছের চারা রোপণ করেন। শ্রীমাও বৃক্ষ-লতার প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং আশ্রমে বাগান গড়ে তুলেছিলেন।
    ৩. কর্মনিষ্ঠা: শ্রীমা আজীবন কামনাহীন কর্মযজ্ঞ করে গেছেন। লিপি দেবীও সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ কাজগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে করেন।
    ৪. সুফল: শ্রীমার প্রচেষ্টায় আশ্রম আদর্শ স্থান হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। তেমনি লিপি দেবীর কাজে তাঁর বাড়িটি 'স্বর্গপুরী'র মতো সুন্দর হয়েছে।

    তবে শ্রীমার কাজের পরিধি আরও বড় ছিল—তিনি আশ্রম, বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও অরোভিল নগরের পরিকল্পনাও করেছিলেন। লিপি দেবীর কাজ তার ক্ষুদ্র কিন্তু সমানভাবে অনুকরণীয় রূপ।

    সুতরাং, লিপি দেবীর কাজ শ্রীমার সৌন্দর্যবোধ ও প্রকৃতিপ্রেমের আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং মূল্যায়নে অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন