পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

ফাহিম, হাছানকে বললো, "বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের নীতিমালা থাকে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।" হাছান বললো, "এর মাধ্যমে একটি দেশ কেমন তা জানা যায় এবং জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষিত হয়।" তাই এটাকে উত্তমরূপে প্রণয়ন করা উচিত।

  1. ক)

    ম্যাগনাকার্টা কী?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশকে প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা উত্তম হিসেব পরিগণিত হওয়ার উপায় বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, বাংলাদেশে উক্ত বিষয়ের নীতিমালাগুলো উত্তম? উত্তরের পক্ষে তোমার যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ম্যাগনাকার্টা হলো ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন কর্তৃক স্বাক্ষরিত অধিকার-সনদ, যা ইংল্যান্ডের সংবিধানের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

  2. খ)

    যে রাষ্ট্রে রাজা বা রানির মতো বংশানুক্রমিক রাষ্ট্রপ্রধান নেই এবং রাষ্ট্রপ্রধান জনগণ বা তাদের প্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাচিত হন, তাকে প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন এবং সংবিধান অনুযায়ী দেশের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। তাই বাংলাদেশকে প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা হয়েছে সংবিধানের কথা, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এবং জনগণের অধিকার রক্ষিত হয়। একটি সংবিধান নিচের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে উত্তম হিসেবে পরিগণিত হয়।

    ১. স্পষ্টতা ও সংক্ষিপ্ততা: ভাষা সহজ ও দ্ব্যর্থহীন হলে জনগণ তা বুঝতে পারে এবং ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ কমে।
    ২. জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন: সংবিধানে জনমত ও জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হতে হবে।
    ৩. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা সংবিধানে সংরক্ষিত থাকতে হবে।
    ৪. নমনীয়তা ও দৃঢ়তার সমন্বয়: যুগের প্রয়োজনে সংশোধনযোগ্য হবে, আবার যখন-তখন পরিবর্তনযোগ্যও হবে না।
    ৫. ক্ষমতার ভারসাম্য ও স্বাধীন বিচার বিভাগ: সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে বণ্টিত এবং বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকতে হবে।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশের সংবিধানের নীতিমালাগুলো উত্তম। এর পক্ষে যুক্তি নিচে দেওয়া হলো।

    ১. লিখিত ও সুস্পষ্ট: বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত দলিল, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম অনুচ্ছেদ আকারে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে।
    ২. জনগণের সার্বভৌমত্ব ও মৌলিক অধিকার: সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ বলে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তৃতীয় ভাগে নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়েছে।
    ৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র (শোষণমুক্ত সমাজ) ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করে রাষ্ট্রের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
    ৪. সংবিধানের প্রাধান্য ও স্বাধীন বিচার বিভাগ: সংবিধানকে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখা হয়েছে।

    সুতরাং, এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশের সংবিধানের নীতিমালাগুলোকে উত্তম বলা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন