বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকার কত সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে?
- খ)(2)
১৯৪৭ সাল পরবর্তী পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে ১ কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে? চিহ্নিত স্থান কোন আন্দোলনকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে উক্ত আন্দোলনের প্রভাব বিদ্যমান-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকার শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- খ)
১৯৪৭ সালের পর পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগ দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি ধারা ছিল উদার, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারপন্থী সোহরাওয়ার্দী-হাশিমপন্থী। অন্যটি ছিল রক্ষণশীল ও পশ্চিম পাকিস্তানিদের আজ্ঞাবহ খাজা নাজিমুদ্দীন-মাওলানা আকরম খাঁপন্থী। এ অন্তর্কোন্দল দলটিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে দেয়। এছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংস্কারপন্থী নেতাদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করত।
- গ)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানটি ভাষা আন্দোলনকে নির্দেশ করে।
চিত্রে '?' চিহ্নিত স্থানের সাথে ১৪৪ ধারা, তমদ্দুন মজলিশ ও ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত যুক্ত। পাকিস্তান সৃষ্টির পর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টার প্রতিবাদে তমুদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে অধিবেশনের অন্যতম ভাষা করার দাবি তোলেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল করলে পুলিশের গুলিতে অনেকে শহিদ হন। এসব ঘটনা ভাষা আন্দোলনেরই অংশ।
- ঘ)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে ভাষা আন্দোলনের প্রভাব বিদ্যমান। এ আন্দোলনই বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তি তৈরি করেছিল।
১. ১৯৫৪ সালের নির্বাচন: যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা, শহিদ মিনার নির্মাণ এবং ২১শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি ছিল। মোট ২৩৭ মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন পায়, মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি।
২. ছয় দফা ও ১৯৬৯: ভাষার অধিকারের মতো স্বায়ত্তশাসনের দাবিও ক্রমে ছয় দফা ও ১১ দফা আন্দোলনে রূপ নেয়, যার পরিণতি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান।
৩. ১৯৭০ ও ১৯৭১: ১৯৭০-এর নির্বাচন, ৭ই মার্চের ভাষণ, অসহযোগ আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে ভাষা আন্দোলনের অনুপ্রেরণা কাজ করেছে। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ বাঙালিকে প্রতিবাদী ও আত্মত্যাগী করে তোলে।সুতরাং, প্রতিটি ধাপেই ভাষা আন্দোলনের চেতনা স্বাধীনতার পথ সুগম করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও