বিজ্ঞান • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
বিজ্ঞান প্রশ্ন
সুমন দীর্ঘদিন যাবৎ বক্ষগহ্বরের মাঝখানে, মধ্যচ্ছদার উপরে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট অঙ্গে ব্যথা অনুভব করেন। আবার অসীমের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা ৮০-১২০ মি.গ্রাম/ডেসি.লি এর চেয়ে বেশি। অন্যদিকে প্রবাহের দেহে এক ধরনের লিপিড বা স্টেরয়েড জাতীয় পদার্থ আছে যা যকৃত ও মগজে বেশি থাকে।
- ক)(1)
প্লাজমা কাকে বলে?
- খ)(2)
মানবদেহে দ্বি-অবতল ও চাকতি আকৃতির কণিকাটি অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুমনের অজাটি সুস্থ রাখার উপায়- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রবাহ ও অসীমের রোগ দুইটির মধ্যে কোনটি দীর্ঘস্থায়ী হলে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। এতে পানি, খনিজ লবণ, প্রোটিন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে।
- খ)
দ্বি-অবতল ও চাকতি আকৃতির কণিকাটি হলো লোহিত রক্তকণিকা (RBC)।
এর দুই পাশ ভেতরের দিকে অবতল থাকায় আয়তনের তুলনায় এর পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেশি হয়। ফলে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন শোষণ করা যায়। তাছাড়া পরিণত RBC-তে নিউক্লিয়াস থাকে না, তাই এতে বেশি হিমোগ্লোবিন ধরে। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তা বহন করে। তাই RBC অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে।
- গ)
সুমনের ব্যথা অনুভূত অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড। এটি সুস্থ রাখার উপায় :
১. খাদ্যাভ্যাস : তেল, ঘি, চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার কম খেতে হবে এবং শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খেতে হবে। লবণ কম খেতে হবে।
২. ধূমপান বর্জন : ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি পরিহার করতে হবে।
৩. ব্যায়াম : প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করতে হবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৪. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ : দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলতে হবে ও পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।
৫. স্বাস্থ্য পরীক্ষা : নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাতে হবে। - ঘ)
উদ্দীপকে প্রবাহের দেহে যে পদার্থটি আছে, তা কোলেস্টেরল (যকৃত ও মগজে বেশি থাকা স্টেরয়েড জাতীয় লিপিড)। অসীমের রক্তে গ্লুকোজ স্বাভাবিক মাত্রার (৮০-১২০ মি.গ্রা/ডেসি.লি.) চেয়ে বেশি, অর্থাৎ সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এ দুটির মধ্যে ডায়াবেটিস (অসীমের রোগ) দীর্ঘস্থায়ী হলে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়।
ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনেক বেড়ে থাকে। এটি হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। উচ্চ রক্তচাপ আবার করোনারি হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায় :
১. খাদ্য নিয়ন্ত্রণ : চিনি ও মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রোটিনসমৃদ্ধ ও কম শ্বেতসারযুক্ত খাবার (গাঢ় সবুজ শাকসবজি, ডিম, মাছ, চর্বি ছাড়া মাংস) খেতে হবে এবং স্থূলকায় হলে ওজন স্বাভাবিক করতে হবে।
২. ওষুধ সেবন : ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ নিতে হবে। ইনসুলিননির্ভর রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হবে।
৩. জীবন-শৃঙ্খলা : নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ পরিমাপ করা জরুরি।সুতরাং, দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও