অর্থনীতি • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
অর্থনীতি প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: জনাব রাফিদ একজন শিল্পপতি। দেশের অভ্যন্তরে তিনি দিয়াশলাই কারখানা পরিচালনা করেন। এছাড়া, দিয়াশলাইয়ের কাঁচামাল হিসেবে বিদেশ 'থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেন। প্রতি বছর তার ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। দৃশ্যপট-২: 'ব' দেশের ২০২৪ সালের বাজেটে প্রস্তাবিত্ব আয় ৭,৩০০ কোটি টাকা এবং প্রস্তাবিত ব্যয় ৮,৫০০ কোটি টাকা
- ক)(1)
সরকারি অর্থব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
প্রতিরক্ষা খাতের বরাদ্দের পরিমাণ প্রকাশ করা হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১ বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী জনাব রাফিদ এর ওপর কোন কোন ধরনের কর ধার্য করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"দৃশ্যপট-২ এ নির্দেশিত বাজেটটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর"- তুমি কি এ বিষয়ে একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সরকারের আয় ও ব্যয় সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা, পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা (Public Finance) বলে।
- খ)
প্রতিরক্ষা খাতের বরাদ্দের পরিমাণ সাধারণত প্রকাশ করা হয় না। কারণ এই তথ্য প্রকাশ পেলে দেশের সামরিক শক্তি, অস্ত্র ও সরঞ্জামের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে শত্রু রাষ্ট্র তা কাজে লাগাতে পারে। এতে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই বরাদ্দ গোপন রাখা হয়।
- গ)
জনাব রাফিদ একজন শিল্পপতি। তিনি দিয়াশলাই কারখানা চালান, বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করেন এবং তার ব্যক্তিগত আয় বাড়ছে। তার ওপর নিম্নলিখিত কর ধার্য করা যায়।
১. আয়কর: ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই নির্ধারিত সীমার ওপরে আয়ের ওপর আয়কর ধার্য করা যায়। এটি প্রত্যক্ষ কর।
২. আমদানি শুল্ক: বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করায় আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বসানো যায়।
৩. আবগারি শুল্ক: দিয়াশলাই দেশে উৎপাদিত পণ্য, তাই এর উৎপাদন বা বিক্রয়ের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা যায়।
৪. মূল্য সংযোজন কর (VAT): উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সময় মূল্য সংযোজনের ওপর ভ্যাট ধার্য করা যায়। এটি পরোক্ষ কর।অর্থাৎ রাফিদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় ধরনের কর ধার্য করা যায়।
- ঘ)
'ব' দেশের প্রস্তাবিত আয় ৭,৩০০ কোটি এবং ব্যয় ৮,৫০০ কোটি টাকা। ব্যয় আয়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় এটি ঘাটতি বাজেট, ঘাটতির পরিমাণ কোটি টাকা। আমি উক্তিটির সাথে একমত।
১. অবকাঠামো ও উন্নয়ন: উন্নয়নশীল দেশে সড়ক, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা কর আয়ের সীমিত সামর্থ্যে সম্ভব হয় না। ঘাটতি বাজেটে অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ থাকে।
২. কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি: সরকারি ব্যয় বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, মানুষের আয় ও চাহিদা বাড়ে এবং অর্থনীতি গতিশীল হয়।
৩. অর্থায়নের উৎস: ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ বা সাহায্যের মাধ্যমে পূরণ করা যায়।তবে ঘাটতি অতিরিক্ত হলে মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণের বোঝা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। সুতরাং, ঘাটতি যুক্তিসংগত সীমায় থাকলে এ ধরনের বাজেট উন্নয়নশীল দেশের জন্য কল্যাণকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও