ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
আমাদের দেশে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ার কারণে রপ্তানি হয় আমাদের মুদ্রাকে শক্তিশালী করছে না। তবে আশার কথা এই যে, আমাদের দেশ থেকে অনেক শ্রমিক এখন বিদেশে যাচ্ছে এবং তাদের পাঠানো অর্থ আমাদের বৈদেশিক বিনিময় সামর্থ্যকে ধরে রাখছে। কিন্তু আমাদের পাঠানো অধিকাংশ শ্রমির অদক্ষ বলে তাদের পারিশ্রমিক অনেক কম। যদি দক্ষ শ্রমিক পাঠানো যায়, তবে এই অবস্থার আরও উন্নতি হবে।
- ক)(1)
বৈদেশিক বিনিময় কী?
- খ)(2)
বৈদেশিক বিনিময়ের আধুনিক তত্ত্ব কোনটি এবং কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আমাদের মুদ্রামান কম হওয়ার পিছনে কোন সমস্যাকে বড় বলে দেখানো হয়েছে।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মুদ্রার মান উন্নয়নে কোন খাতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে এক দেশের মুদ্রাকে অন্য দেশের মুদ্রায় রূপান্তর বা রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে বৈদেশিক বিনিময় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈদেশিক বিনিময়ের আধুনিক তত্ত্ব হলো ‘লেনদেন ভারসাম্য তত্ত্ব’ (Balance of Payments Theory)।
কারণ, এই তত্ত্ব অনুযায়ী কোনো দেশের মুদ্রার বৈদেশিক বিনিময় হার কেবল মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; বরং তা বৈদেশিক মুদ্রার সামগ্রিক চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য অনুকূলে থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ে ও বিনিময় হার বাড়ে, আর লেনদেনের ভারসাম্য প্রতিকূলে থাকলে বিনিময় হার কমে যায়। এটি আধুনিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় একে আধুনিক তত্ত্ব বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আমাদের মুদ্রার মান কম হওয়ার পিছনে ‘আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কম হওয়া’ বা ‘বাণিজ্য ঘাটতি’-কে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বৈদেশিক বিনিময় হারের নিয়মানুযায়ী, একটি দেশ যখন বেশি পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে, তখন বাজারে সেই দেশের মুদ্রার চাহিদা বাড়ে এবং মুদ্রা শক্তিশালী হয়। বিপরীতভাবে, আমদানির পরিমাণ রপ্তানির চেয়ে বেশি হলে আমদানির দায় মেটাতে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করতে হয়, যার ফলে দেশীয় মুদ্রার মান অবমূল্যায়িত বা দুর্বল হয়।
উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “আমাদের দেশে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ার কারণে রপ্তানি আয় আমাদের মুদ্রাকে শক্তিশালী করছে না।” অর্থাৎ আমাদের দেশে বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান, যার কারণে বৈদেশিক বাজারে আমাদের মুদ্রার বিনিময় মান দুর্বল বা কম হয়ে পড়ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আমাদের মুদ্রার মান উন্নয়নে ‘জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স খাত’ (প্রবাসী আয়)-এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রপ্তানি কম হওয়া সত্ত্বেও বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের প্রেরিত অর্থ (রেমিট্যান্স) আমাদের বৈদেশিক বিনিময় সামর্থ্যকে ধরে রাখছে। এই খাতের গুরুত্ব ও সম্ভাবনার দিকগুলো নিম্নরূপ:
১. বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বৃদ্ধি: রেমিট্যান্স সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করে, যা আন্তর্জাতিক দেনা পরিশোধে এবং দেশের মুদ্রার বিনিময় মান স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
২. বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ: আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রপ্তানি আয়ের যে ঘাটতি তৈরি হয়, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ সেই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
৩. অদক্ষ থেকে দক্ষ শ্রমিকে রূপান্তর: উদ্দীপকে অত্যন্ত যুক্তিযুক্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে প্রেরিত শ্রমিকদের অধিকাংশই অদক্ষ হওয়ায় তারা কম পারিশ্রমিক পান। যদি যথাযথ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো যায়, তবে বহুগুণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসবে।পরিশেষে বলা যায়, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং মুদ্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব—উদ্দীপকে এই খাতের গুরুত্বই সবিশেষ প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও