ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. জুনায়েদ একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। তিনি তার কর্মীদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পারিশ্রমিক দেন না। ফলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আর্থিক-অনার্থিক সব উপাদান নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করে একটি সুষ্ঠু উৎপাদন পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনের পরিমাণ ও মান বাড়াতে আগ্রহী।
- ক)(1)
ব্যবস্থাপক কে?
- খ)(2)
ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মি. জুনায়েদ কর্তৃক কর্মীদের প্রদত্ত অপর্যাপ্ত পারিশ্রমিক ব্যবস্থাপনার কোন কাজের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উৎপাদনের পরিমাণ ও মান বৃদ্ধিতে মি, জুনায়েদ কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্য লোকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন ও ব্যবস্থাপনা কার্য পরিচালনা করেন, তাকে ব্যবস্থাপক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন' বলতে বোঝায় ব্যবস্থাপনার নীতি ও কৌশলসমূহ পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ও যেকোনো ধরনের সংগঠনে সমানভাবে প্রযোজ্য ও আবশ্যক।
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস প্রথম 'ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন' ধারণাটি প্রকাশ করেন। এর মূল কথা হলো, যেকোনো যৌথ মানবীয় প্রচেষ্টায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, প্রেষণা ও নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি মৌলিক কাজগুলো অপরিহার্য। সংগঠনভেদে কাজের পরিধি বা কাঠামোগত পার্থক্য থাকলেও ব্যবস্থাপনার মূল বিষয়গুলো সর্বত্রই একইভাবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. জুনায়েদ কর্তৃক কর্মীদের প্রদত্ত অপর্যাপ্ত পারিশ্রমিক ব্যবস্থাপনার 'কর্মীসংস্থান' (Staffing) কাজের অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত মানবসম্পদ সংগ্রহ, নির্বাচন, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি এবং উপযুক্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে কর্মীসংস্থান বলে। উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান কর্মীসংস্থানের ক্ষতিপূরণ (Compensation) উপাদানের অংশ, যা কর্মীদের ধরে রাখতে ও কাজের প্রতি আগ্রহী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে মি. জুনায়েদ তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক দিচ্ছেন না, যার ফলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। পারিশ্রমিক ও আর্থিক সুবিধাদি নির্ধারণ ও প্রদান কর্মীসংস্থানের কার্যসীমার আওতায় পড়ে। তাই মি. জুনায়েদের এ পদক্ষেপটি কর্মীসংস্থান কাজের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের পরিমাণ ও মান বৃদ্ধিতে মি. জুনায়েদের কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও যথাযথ। নিম্নে এর যথার্থতা মূল্যায়ন করা হলো:
মনোবল হলো কাজের প্রতি কর্মীর ইতিবাচক বা নেতিবাচক মানসিক অবস্থা। কর্মীদের সন্তুষ্টি ও উচ্চ মনোবল প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। আর্থিক ও অনার্থিক সুবিধার সমন্বয়ে কর্মীদের প্রেষিত করলে তাদের মনোবল বৃদ্ধি পায়, যা কাজের প্রতি একাগ্রতা ও দায়িত্বশীলতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. জুনায়েদ শুরুতে পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক না দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। অসন্তুষ্ট কর্মী কখনোই তাদের সর্বোচ্চ শ্রম দিতে পারে না, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগত মানে। পরবর্তীতে মি. জুনায়েদ পরিস্থিতি অনুধাবন করে আর্থিক ও অনার্থিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ সৃষ্টির পরিকল্পনা করেন।
কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা হলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে, অপচয় হ্রাস পায় এবং পণ্যের গুণগত মান উন্নত হয়। ফলে একটি সুষ্ঠু উৎপাদন পরিবেশ তৈরি হয় যা সার্বিক উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তোলে। অতএব, প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য ও উৎপাদনের পরিমাণ ও মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির ব্যাপারে মি. জুনায়েদের নেওয়া সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত যথার্থ ও প্রশংসনীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও