DU • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা) ভর্তি পরীক্ষা ২০২০-২০২১
প্রশ্ন ও সমাধান
রচনামূলক
'বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ অতিমারির প্রভাব' বিষয়ে সংক্ষিপ্ত রচনা লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
(2.1) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ অতিমারির প্রভাব
২০১৯ সালের শেষে চীনে শনাক্ত হওয়া কোভিড-১৯ দ্রুত বিশ্বব্যাপী অতিমারির রূপ নেয়। ২০২০ সালের মার্চে বাংলাদেশে প্রথম আক্রান্ত শনাক্ত হলে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে এবং লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বড় ধাক্কা খায়।
নেতিবাচক প্রভাব:
১. রপ্তানি খাত: প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিল বা স্থগিত করায় রপ্তানি আয় কমে যায় এবং অনেক কারখানা সংকটে পড়ে।
২. কর্মসংস্থান: দিনমজুর, রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষ আয় হারায়; বহু শ্রমিক চাকরি হারান এবং নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যান।
৩. প্রবাসী আয়: বিদেশে শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ায় কর্মী পাঠানো কমে যায় এবং বহু প্রবাসী দেশে ফিরে আসেন।
৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মানবসম্পদের ক্ষতি হয় এবং স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়ের চাপ বাড়ে।
৫. প্রবৃদ্ধি: জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
ইতিবাচক ও পুনরুদ্ধারের দিক:
সরকার বিপুল অঙ্কের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যার মাধ্যমে শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়া হয়। কৃষি খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে, প্রবাসী আয় প্রবাহ বেড়ে যায় এবং ই-কমার্স ও ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে টিকাদান কর্মসূচি ও বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়।
উপসংহার: কোভিড-১৯ আমাদের অর্থনীতির দুর্বলতা যেমন দেখিয়েছে, তেমনি সহনশীলতাও প্রমাণ করেছে। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও