অর্থনীতি ২য় পত্র • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য • DU • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ইউনিট (বিভাগ পরিবর্তন) ভর্তি পরীক্ষা ২০২২-২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ কীভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে লাভবান হতে পারে- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
(৩)
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হলো বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্রব্য ও সেবার আদান-প্রদান। তুলনামূলক সুবিধা (Comparative Advantage) নীতি অনুযায়ী প্রতিটি দেশ যে পণ্য কম সুযোগ-ব্যয়ে উৎপাদন করতে পারে তা রপ্তানি করে এবং অন্যগুলো আমদানি করে লাভবান হয়। বাংলাদেশ নিম্নোক্ত উপায়ে লাভবান হতে পারে:
১. শ্রমঘন পণ্যে বিশেষায়ন: সুলভ শ্রম থাকায় তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, ঔষধ ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন।
২. রপ্তানি বহুমুখীকরণ: শুধু পোশাকনির্ভর না থেকে ঔষধ, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, জাহাজ নির্মাণ, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যে রপ্তানি বাড়ানো।
৩. মূলধনী যন্ত্র ও কাঁচামাল আমদানি: উন্নত প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি করে শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।
৪. বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তর: রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (EPZ/অর্থনৈতিক অঞ্চল) বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা অর্জন।
৫. কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি: রপ্তানিমুখী শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থান, বিশেষত নারীর কর্মসংস্থান বাড়ে।
৬. ভোক্তার সুবিধা: আমদানির ফলে ভোক্তারা কম দামে বেশি ও ভালো মানের পণ্য পায়, প্রতিযোগিতার কারণে দেশীয় শিল্পের মান উন্নত হয়।
৭. বাণিজ্য চুক্তি ও বাজার প্রবেশাধিকার: আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক মুক্ত/অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি, শুল্কমুক্ত সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং এলডিসি উত্তরণের পর নতুন বাজার-কৌশল গ্রহণ।
করণীয়: বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, পণ্যের মান ও ব্র্যান্ডিং উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহজীকরণ। সুপরিকল্পিত বাণিজ্য নীতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও