Jagannath University • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা ২০১৮-২০১৯

প্রশ্ন ও সমাধান

“বিড়াল প্রাণী হিসেবে ক্ষুদ্র কিন্তু চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে অসামান্যা।" 'বিড়াল' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

(৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'বিড়াল' প্রবন্ধে আফিমখোর কমলাকান্ত একটি বিড়ালের মুখে সমাজের অসংগতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেছেন। বিড়াল আকারে ও প্রাণী হিসেবে ক্ষুদ্র হলেও তার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গভীর ও যুক্তিনির্ভর; এ কারণেই উক্তিটি যথার্থ।

প্রসঙ্গ: কমলাকান্ত আফিমের নেশায় রাতে একটি বিড়ালকে দুধ খেতে দেখে বিরক্ত হন এবং তাকে প্রহার করতে উদ্যত হন। তখন বিড়াল যুক্তি দিয়ে তার আচরণের ব্যাখ্যা দেয়।

বিড়ালের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির অসামান্যতা:
১. ক্ষুধার যুক্তি: বিড়াল স্বীকার করে সে চুরি করে, কিন্তু ক্ষুধার তাড়নাতেই করে। ক্ষুধার্তের খাদ্য সংগ্রহ অপরাধ নয়, বরং এর জন্য দায়ী সমাজের অব্যবস্থা।
২. সমাজের বৈষম্যের সমালোচনা: বিড়াল দেখিয়ে দেয়, ধনীরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভোগ করে, অথচ দরিদ্র অনাহারে থাকে। এই বৈষম্য সমাজের নৈতিক ত্রুটি।
৩. নৈতিক শিক্ষা: বিড়াল বলে, যার অতিরিক্ত আছে তার উচিত অভাবীকে দেওয়া; নইলে অভাবীর চুরি ন্যায্য প্রতিক্রিয়া।
৪. কমলাকান্তের উপলব্ধি: বিড়ালের যুক্তি শুনে কমলাকান্ত লজ্জিত হন এবং তাকে দুধ খেতে দেন। এতে প্রমাণিত হয়, ক্ষুদ্র প্রাণীর বক্তব্যও মানবসমাজকে আত্মসমীক্ষায় বাধ্য করে।

উপসংহার: বিড়াল দেহে ক্ষুদ্র হলেও তার যুক্তি, সমাজচেতনা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অসাধারণ। এ কারণেই 'প্রাণী হিসেবে ক্ষুদ্র কিন্তু চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে অসামান্যা' উক্তিটি সার্থক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন