ভূগোল এবং পরিবেশ • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: শিমুল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বসবাস করে। সেখানে অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়। দৃশ্যকল্প-২: বকুল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকের এক জেলায় বাস করে। সেখানে ভূতাত্ত্বিক গঠনগত দিক দিয়ে এক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়। যা রিখটার স্কেলে পরিমাপ করা হয়।

  1. ক)

    নদীভাঙন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের দক্ষিণে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত দুর্যোগটির বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তুমি কোন ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নদীর স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে নদীর তীরের মাটি ক্ষয় হয়ে ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়াকে নদীভাঙন বলে।

  2. খ)

    বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এর উত্তর অংশ ফানেলের মতো সংকীর্ণ হয়ে এসেছে, ফলে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস সহজেই উপকূলে আছড়ে পড়ে। গ্রীষ্মের শুরুতে ও বর্ষার শেষে সাগরের পানি উষ্ণ থাকায় এখানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। তাই বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে অধিক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত দুর্যোগটি খরা।

    বর্ণনা:
    ১. দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিপাত না হলে বা খুব কম বৃষ্টি হলে মাটিতে আর্দ্রতার ঘাটতি দেখা দেয়, একে খরা বলে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এটি বেশি দেখা যায়।
    ২. খরায় মাটি শুকিয়ে ফেটে যায়, জলাশয় ও নদীর পানি কমে যায়।
    ৩. ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়, ফলে খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
    ৪. পানির অভাবে মানুষ ও প্রাণীর কষ্ট বাড়ে এবং শুকনো গাছপালা ও ঘরে সহজে আগুন লেগে অগ্নিকাণ্ড বেড়ে যায়।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত দুর্যোগটি ভূমিকম্প, কারণ এটি রিখটার স্কেলে মাপা হয় এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আমি নিচের পদক্ষেপ নেব:

    ১. নিরাপদ ভবন নির্মাণ: ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মেনে চলা এবং ভূমিকম্প সহনশীল নকশা ব্যবহার করা, যাতে ভবন ধসে না পড়ে।
    ২. সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ: ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে স্কুল, কর্মস্থল ও এলাকায় সচেতনতা তৈরি এবং মহড়া আয়োজন করা। যেমন, কম্পনের সময় টেবিল বা শক্ত আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং লিফট ব্যবহার না করা।
    ৩. উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রস্তুতি: উদ্ধারকারী দল, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ও জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা।
    ৪. গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন বন্ধ রাখা এবং কম্পনের পর খোলা জায়গায় সরে যাওয়া, যাতে আগুন ও ধসে পড়া ভবনের ক্ষতি এড়ানো যায়।

    ভূমিকম্প আগে থেকে রোধ করা যায় না, তাই প্রস্তুতিই প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি কমানোর কার্যকর উপায়। সুতরাং, এসব পদক্ষেপ নিলে এ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন