হিন্দু ধর্ম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
মিন্টু তার বাবার সাথে বেড়াতে লাউয়াছড়া উদ্যানে যায়। সেখানে প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়। গাছপালা, জীবজন্তু, বিভিন্ন জীববৈচিত্র্য দেখে তার মনে অনুভূতির সৃষ্টি হয়। সে বুঝতে পারে, এর মূলে রয়েছেন সুমহান স্রষ্টা, তিনি আদি পুরুষ। জ্ঞানীর কাছে তিনি ব্রহ্ম, যোগীর কাছেপরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে ভগবান।
- ক)(1)
যোগসাধনা কাকে বলে?
- খ)(2)
মহাদেবকে নটরাজ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
প্রকৃতিতে ঈশ্বর সম্পর্কে মিন্টুর ধারণা তোমার পাঠের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
"জ্ঞানীর কাছে ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরমাত্মা"- উক্তিটি তোমার পঠিত বিষয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
হিন্দুধর্মে যোগের মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগসাধনা বলে। অর্থাৎ জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগই যোগসাধনা।
- খ)
মহাদেব বা শিব নাট্য ও নৃত্যে পারদর্শী। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র ও নৃত্যশাস্ত্রসহ বহু বিদ্যায় দক্ষ। নাট্যে ও নৃত্যে এই পারদর্শিতার কারণে তাঁকে নটরাজ বলা হয়। নটরাজ অর্থ নাট্য ও নৃত্যের রাজা।
- গ)
উদ্দীপকে মিন্টু লাউয়াছড়া উদ্যানে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে বুঝতে পারে যে এর মূলে আছেন এক সুমহান স্রষ্টা। প্রকৃতিতে ঈশ্বর সম্পর্কে মিন্টুর এই ধারণা হলো, ঈশ্বরই সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সৃষ্টির মধ্যে বিরাজমান।
পাঠ্যবই অনুযায়ী সুনীল আকাশ, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, গাছপালা ও জীবজন্তু নিয়ে এই বিচিত্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। এ সবকিছু সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর। তিনি মানুষ ও জীবজন্তুর কল্যাণে সৌন্দর্য ও সম্পদে ভরপুর এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য তাঁরই সৌন্দর্য। রজনীকান্ত সেনের গানে আছে, ঈশ্বর অনল-অনিলে, ভূধর-সলিলে, বিটপী-লতায়, শশী-তারকায় ও তপনে বিরাজ করেন। অর্থাৎ অগ্নির দাহিকা শক্তি, বায়ুর গতি, পর্বতের দৃঢ়তা, জলের গভীরতা সবই ঈশ্বরের শক্তির প্রকাশ।
মিন্টু গাছপালা, জীবজন্তু ও জীববৈচিত্র্য দেখে মুগ্ধ হয়েছে। সে উপলব্ধি করেছে, এসব আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়নি। এর পেছনে রয়েছেন আদি পুরুষ স্রষ্টা। এই উপলব্ধিই পাঠ্যবইয়ের সৃষ্টির মূলে ঈশ্বর, এই ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ।
অতএব মিন্টুর ধারণা, প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টিতে সর্বশক্তিমান এক ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও মহিমা প্রকাশিত।
- ঘ)
উক্তিটির মূল ভাব হলো, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় হলেও সাধকের উপলব্ধি ও সাধনপথ অনুযায়ী তিনি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। জ্ঞানী তাঁকে ব্রহ্ম, যোগী পরমাত্মা এবং ভক্ত ভগবান বলে জানেন। পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটি যথার্থ।
পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, হিন্দুধর্মাবলম্বীরা স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর বা ভগবান বলে অভিহিত করেন। বেদ ও উপনিষদে ব্রহ্ম বা ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। বিপ্রগণ সেই এক সদবস্তুকে বহুপ্রকার বলে বর্ণনা করেন।
১. জ্ঞানীর কাছে ব্রহ্ম : জ্ঞানী ব্যক্তি জ্ঞানযোগের পথে ঈশ্বরকে নিরাকার, সর্বব্যাপী সত্তা হিসেবে উপলব্ধি করেন। উপনিষদে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টাকে ব্রহ্ম বলা হয়েছে। এই স্তরে ঈশ্বরের কোনো রূপ বা আকার নেই।
২. যোগীর কাছে পরমাত্মা : যোগী সংযম ও ধ্যানের মাধ্যমে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন ঘটাতে চান। এই পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন এবং তাঁর থেকেই জীবজগতের সৃষ্টি। পরমাত্মার সকল গুণই জীবাত্মার মধ্যে বিদ্যমান।
৩. ভক্তের কাছে ভগবান : ভক্ত ঈশ্বরকে প্রেম ও ভক্তি দিয়ে সগুণ, সাকার রূপে উপলব্ধি করেন। ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য, এই ছয় গুণের অধিকারী ঈশ্বরই ভক্তের কাছে ভগবান।
৪. ঐক্য ও উদারতা : তিন নামই একই ঈশ্বরকে বোঝায়। সাধনার পথ তিন রকম হলেও গন্তব্য এক। এটি হিন্দুধর্মের একেশ্বরবাদী ও উদার চেতনারই প্রকাশ। উদ্দীপকের মিন্টুও স্রষ্টাকে এই তিন রূপেই জেনেছে।
সুতরাং উক্তিটি যথার্থ। একই ঈশ্বর উপলব্ধির পার্থক্যের কারণে ব্রহ্ম, পরমাত্মা ও ভগবান নামে পরিচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও