হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি ঈশ্বর বা মোক্ষলাভ। এই মোক্ষলাভের জন্য যুগে যুগে ঋষিগণ ভিন্ন ভিন্ন পথের সন্ধান দিয়ে গেছেন। কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তিযোগ এগুলোর যে কোনো একটি সাধন পথ অনুসরণ করলেই মোক্ষলাভ সম্ভব

  1. ক)

    অবতার কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    নিষ্কাম কর্ম বলতে কী বুঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক অনুসরণে কর্মযোগের মাধ্যমে ঈশ্বর প্রাপ্তি সম্পর্কে আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি ঈশ্বরলাভ"- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অবতার দুই প্রকার—পূর্ণাবতার ও অংশাবতার।

  2. খ)

    যে কর্ম কোনো ফলের আশা না করে করা হয়, তাকে নিষ্কাম কর্ম বলে। এখানে কর্তা মনে করেন, কর্মের কর্তা তিনি নন, কর্মফলও তাঁর নয়। তিনি কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ করেন। নিষ্কাম কর্মের ফল কর্তাকে স্পর্শ করে না। এই নিষ্কাম কর্মই কর্মযোগ এবং এর মাধ্যমে মোক্ষলাভ হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তিযোগের যেকোনো একটি সাধন পথ অনুসরণ করলে মোক্ষলাভ সম্ভব। কর্মযোগের মাধ্যমে ঈশ্বরপ্রাপ্তি সম্পর্কে আলোচনা নিচে দেওয়া হলো।

    ধারণা : জীবনধারণের জন্য যা কিছু করা হয়, তা-ই কর্ম। কর্ম দুই প্রকার—সকাম কর্ম ও নিষ্কাম কর্ম। বিশেষ ফলের আশায় কৃত কর্ম সকাম কর্ম, যা জীবকে জন্ম-মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ করে। আর ফলের আশা ত্যাগ করে ঈশ্বরের কর্ম মনে করে যা করা হয়, তা নিষ্কাম কর্ম বা কর্মযোগ। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ‘কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন’—কর্মেই তোমার অধিকার, ফলে কখনো নয়।

    ঈশ্বরপ্রাপ্তি : কর্মযোগী কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ করেন, ‘আমি কর্তা’ এই অভিমান রাখেন না এবং নিজের কর্ম অবশ্যই সম্পন্ন করেন। এতে অন্তরে অনাবিল আনন্দ আসে, ভগবানের প্রতি ভক্তির উদয় হয় এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে মুক্তিলাভ ঘটে। উদ্দীপকের ‘ঋষিগণ যে পথের সন্ধান দিয়েছেন’ তার একটি হলো এই কর্মযোগ।

    অতএব, নিষ্কাম কর্ম অনুশীলনের মাধ্যমে কর্মযোগী ঈশ্বর বা মোক্ষ লাভ করতে পারেন।

  4. ঘ)

    ‘মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি ঈশ্বরলাভ’—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ঈশ্বর বা মোক্ষলাভই মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি এবং উদ্দীপকেও একই কথা বলা হয়েছে।

    ধারণা : হিন্দুধর্মে ঈশ্বরলাভ বা মোক্ষ বলতে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি পেয়ে পরমাত্মার সাথে লীন হওয়া বা তাঁর সান্নিধ্য লাভ করাকে বোঝায়।

    ১. ঈশ্বর সবকিছুর মূল : গীতায় বলা হয়েছে, ঈশ্বর পরমাত্মা ও একমাত্র আশ্রয়। তিনি জীবের জীবন ও সর্বভূতের সনাতন বীজ। তিনি জীবের জন্ম ও মৃত্যুর বিধায়ক। এমন পরম সত্তাকে লাভ করাই জীবনের চূড়ান্ত সার্থকতা।
    ২. অন্য প্রাপ্তি ক্ষণস্থায়ী : বৈদিক যুগে সকাম কর্মের সর্বোচ্চ ফল ছিল স্বর্গলাভ। কিন্তু ‘ক্ষীণে পুণ্যে মর্ত্যলোকং বিশন্তি’—পুণ্য ক্ষয় হলে স্বর্গ থেকে আবার মর্ত্যে জন্ম নিতে হয়। অতএব জাগতিক বা স্বর্গীয় সুখ স্থায়ী নয়, কেবল মোক্ষেই স্থায়ী শান্তি।
    ৩. সাধনার পথ ও সার্থকতা : কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তিযোগ—ঋষিদের নির্দেশিত এই তিন পথই ঈশ্বরলাভের জন্য। এ সাধনায় মানুষের চরিত্র শুদ্ধ হয়, সর্বজীবে সমবুদ্ধি আসে এবং অহংকার, হিংসা দূর হয়। ফলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণ হয়।
    ৪. জীবসেবা : যাঁরা ঈশ্বরকে সকল জীবের মধ্যে অবস্থিত জানেন, তাঁরা ঈশ্বরজ্ঞানে জীবসেবা করেন। এতে মানবকল্যাণও সাধিত হয়।

    সুতরাং, ঈশ্বরলাভ অন্য সকল প্রাপ্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি স্থায়ী মুক্তি ও পরম শান্তি দেয়। তাই উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন