ইসলাম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

মুরতাজা বিশ্বাস করেন যে, পৃথিবীর সকল মানুষ ইহকালীন কর্মের জন্য একদিন সৃষ্টিকর্তার নিকট জবাবদিহিতার সম্মুখীন হবেন। হিসাব-নিকাশ শেষে পুণ্যবানদের পুরস্কার স্বরূপ দেয়া হবে এক আরামদায়ক স্থান। যে জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। অন্যদিকে কালিম মিয়ার ধারণা কিয়ামত পর্যন্ত যেহেতু পৃথিবীতে মানুষের আগমনের ধারা অব্যাহত থাকবে সেহেতু তাদের সৎপথ দেখানোর জন্য আল্লাহ নবি-রাসুলও পাঠাবেন। তিনি মনে করেন, নবুয়তের ধারা এখনও বলবৎ রয়েছে।

  1. ক)

    তাওহিদ বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    'মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    কালিম মিয়ার ধারণায় ইসলামের কোন। বিষয়টি অবিশ্বাস করা হয়? বিষয়টির ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    মুরতাজার বিশ্বাসটি চিহ্নিতপূর্বক মানবজীবনে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    তাওহিদ বলতে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও ক্ষমতায় কোনো শরিক নেই, এই বিশ্বাসকে বোঝায়।

  2. খ)

    আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা অন্য কোনো সৃষ্টিকে দেননি। তিনি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীতে তাঁর খলিফা (প্রতিনিধি) বানিয়েছেন। মানুষ ভালো-মন্দ বেছে নিতে পারে এবং সৃষ্টির সবকিছু তার কল্যাণে ব্যবহার করতে পারে। এই কারণে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব (আশরাফুল মাখলুকাত)।

  3. গ)

    কালিম মিয়ার ধারণায় ইসলামের খতমে নবুয়ত (নবুয়তের সমাপ্তি) বিষয়টি অবিশ্বাস করা হয়েছে।

    ব্যাখ্যা: ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী হযরত মুহাম্মদ (স) সর্বশেষ নবি ও রাসুল। আল্লাহ কুরআনে তাঁকে 'খাতামুন নাবিয়্যিন' (নবিদের সমাপ্তকারী) বলেছেন (সূরা আহযাব: ৪০)। তাঁর মাধ্যমে দ্বীন পূর্ণ হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর আদর্শই সকলের পথপ্রদর্শক। তাই নতুন নবি আগমনের ধারণা রিসালাতের মূল বিশ্বাসের পরিপন্থী।

  4. ঘ)

    মুরতাজার বিশ্বাসটি আখিরাতে বিশ্বাস (পরকালে বিশ্বাস)। তিনি মনে করেন, সব মানুষ ইহকালের কর্মের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে এবং পুণ্যবানরা চিরস্থায়ী আরামের স্থান (জান্নাত) পাবে।

    ১. নৈতিক ও সৎ জীবন: জবাবদিহির ভয়ে মানুষ অন্যায়, দুর্নীতি ও জুলুম থেকে বিরত থাকে।
    ২. সৎকাজে উৎসাহ: পুরস্কারের আশায় মানুষ ইবাদত ও পরোপকারে আগ্রহী হয়।
    ৩. ধৈর্য ও আশা: দুনিয়ার কষ্টে সে হতাশ হয় না, কারণ সে জানে আখিরাতে প্রতিদান নিশ্চিত।

    সুতরাং, আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দায়িত্বশীল ও চরিত্রবান করে তোলে এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি আনে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন