ভূগোল এবং পরিবেশ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

মাহিনদের গ্রাম একসময় প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ছিল। সবুজ গাছ-পালা, শস্যক্ষেত, জলাভূমি- সবকিছুই এখন নিঃশেষিত। কলকারখানা ও পুরানো গাড়ির কালো ধোঁয়ায় গ্রামের মানুষজন এখন রীতিমতো অতিষ্ঠ।

  1. ক)

    জীববৈচিত্র্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা কোন সমস্যাকে নির্দেশ করে? এর কারণ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা কোন সমস্যাকে নির্দেশ করে? এর কারণ বর্ণনা করো। ৩

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সকল ধরনের উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের বৈচিত্র্যময় অবস্থাকে জীববৈচিত্র্য বলে।

  2. খ)

    জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার প্রধান কারণ পানি দূষণ। কৃষিক্ষেত্রের কীটনাশক, শিল্পকারখানার রং, গ্রিজ, রাসায়নিক দ্রব্য ও উষ্ণ পানি এবং যানবাহনের তেল বর্জ্য জলাশয়ে মিশে যায়। বসতির বর্জ্য, নদীর পাড় দখল এবং জলাভূমি ভরাটও এর কারণ। এতে পানি দূষিত হয় এবং জলজ প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়ে প্রাণী বিলুপ্ত হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা পরিবেশ দূষণ ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা, বিশেষ করে বায়ু দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের সমস্যাকে নির্দেশ করে।

    কারণ:
    ১. কলকারখানা ও পুরোনো যানবাহনের কালো ধোঁয়া বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে বায়ু দূষণ ঘটায়।
    ২. সবুজ গাছপালা ও জলাভূমি ধ্বংস করে শিল্পকারখানা, আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বনভূমি ও জলাভূমি কমেছে।
    ৩. কৃষিতে অধিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটি ও পানি দূষিত হয়ে শস্যক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    ৪. পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অধিক লাভের আশায় উন্নয়নকাজ পরিচালনা।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত মাহিনদের গ্রামের সমস্যাটি হলো পরিবেশ দূষণ ও ভারসাম্যহীনতা। কলকারখানা ও পুরোনো গাড়ির ধোঁয়া এবং সবুজ গাছপালা, শস্যক্ষেত ও জলাভূমি ধ্বংস এর প্রধান লক্ষণ। এর কারণগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো-

    ১. বায়ু দূষণ: কলকারখানা ও পুরোনো গাড়ির ধোঁয়ার সাথে সীসা, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইডের মতো বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে মিশে বায়ু দূষিত করে। এতে মানুষের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও অ্যালার্জিজনিত রোগ বাড়ে।
    ২. বনভূমি ও জলাভূমি ধ্বংস: শিল্পকারখানা ও আবাসন নির্মাণের জন্য গাছপালা কেটে ফেলা এবং জলাশয় ভরাট করার ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস হয়েছে।
    ৩. মাটি ও পানি দূষণ: অধিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার এবং শিল্প বর্জ্যের কারণে মাটি ও পানি দূষিত হয়ে শস্যক্ষেত নষ্ট হয়েছে।
    ৪. অসচেতনতা: পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে স্বল্প জ্ঞান এবং অধিক লাভের আশায় পরিবেশের ক্ষতি করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে।

    সুতরাং, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, যানবাহনের ধোঁয়া ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের কারণেই মাহিনদের গ্রামের পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন