কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৭
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
নেহালপুর গ্রামের হাসেম মিয়া তার দেশি গাভিকে ডাকে আসার পর স্থানীয় পশু প্রজনন কর্মীকে ডেকে এনে প্রজনন করালেন। কিছুদিন পর ঐ গাভি থেকে একটি বকনা বাছুর হলো। বাছুরটি দেখতে বেশ সুন্দর ও বড়সড় ধরনের। পরবর্তীতে ঐ বাছুরটি যখন বড় হয়ে ডাকে আসল তখন একইভাবে প্রজননের মাধ্যমে হাসেম মিয়া তার থেকে আরও একটি বাছুর পেলেন এবং গাভির দুধ উৎপাদনও বেড়ে গেল। গ্রামবাসীরা হাসেম মিয়ার গাভি দেখে তারাও ঐ ধরনের গাভি পালনে আগ্রহী হলো।
- ক)(1)
মৌমাছি চাষ কী?
- খ)(2)
রাইজোবিয়াম কেন অণুজীব সার? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
হাসেম মিয়া কীভাবে একটি উন্নত জাতের বাছুর পেলেন, ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের হাসেম মিয়ার কর্মকাণ্ডটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছির লালন-পালন, মধু ও মোম উৎপাদনের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনাকে মৌমাছি চাষ বা এপিকালচার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাইজোবিয়াম হলো এক ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা শিমজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে নডিউল তৈরি করে বায়ু থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে মাটিতে সরবরাহ করে। যেহেতু এটি একটি জীবন্ত অণুজীব এবং উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান (নাইট্রোজেন) জোগাতে সহায়তা করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, তাই রাইজোবিয়ামকে অণুজীব সার বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হাসেম মিয়া কৃত্রিম প্রজনন (Artificial Insemination) পদ্ধতির মাধ্যমে একটি উন্নত জাতের বাছুর পেলেন।
কৃত্রিম প্রজনন হলো উন্নত জাতের ষাঁড়ের বীজ বা সিমেন সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে তা গরম হওয়া সুস্থ দেশি গাভির জরায়ুতে প্রবেশ করিয়ে গর্ভসঞ্চার করার একটি আধুনিক প্রযুক্তি। হাসেম মিয়া তার দেশি গাভি ডাকে আসার পর স্থানীয় পশু প্রজনন কর্মীকে ডেকে এনে উন্নত জাতের ষাঁড়ের সিমেন দিয়ে প্রজনন করান। ফলে দেশি গাভির ডিম্বাণু ও উন্নত ষাঁড়ের শুক্রাণুর মিলনে ক্রস ব্রিড বা সংকর জাতের বাছুর উৎপন্ন হয়, যা দেশি জাতের চেয়ে শারীরিক গঠন, বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতায় অনেক উন্নত ও বড়সড় হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের হাসেম মিয়ার দেশি গাভিকে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের গাভিতে রূপান্তরের কর্মকাণ্ডটি অত্যন্ত সময়োপযোগী, লাভজনক ও অনুকরণীয়। নিচে এর মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হলো:
১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: স্থানীয় অনুন্নত জাতের গাভির দুধ ও মাংস উৎপাদন ক্ষমতা খুবই কম। হাসেম মিয়ার গৃহীত কৃত্রিম প্রজনন কৌশলের ফলে প্রথম প্রজন্মের সংকর বকনা গাভি পরবর্তীতে অধিক দুধ উৎপাদনে সক্ষম হয়, যা পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করে।
২. জাত উন্নয়ন: ধারাবাহিকভাবে কৃত্রিম প্রজনন ব্যবহারের মাধ্যমে দেশি অনুন্নত গরুর জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে পর্যায়ক্রমে আরও উন্নত জাত তৈরি করা সম্ভব হয়।
৩. অল্প খরচে সর্বোচ্চ সুবিধা: একটি উন্নত জাতের প্রজননক্ষম ষাঁড় কেনা ও লালন-পালন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কিন্তু পশু প্রজনন কর্মীর মাধ্যমে নামমাত্র খরচে সর্বোৎকৃষ্ট জাতের বীজ ব্যবহার করে উন্নত বাছুর পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
৪. সামাজিক প্রভাব ও দারিদ্র্য বিমোচন: হাসেম মিয়ার সাফল্য দেখে প্রতিবেশীরাও এই প্রযুক্তি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। এতে সামগ্রিকভাবে সমাজে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন ঘটে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
অতএব, হাসেম মিয়ার কর্মকাণ্ডটি সম্পূর্ণ আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত এবং দেশের দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি পদক্ষেপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও