বিজ্ঞান • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
বিজ্ঞান প্রশ্ন
তুহিনদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছলিমগঞ্জ। তাদের এলাকায় একদিন হঠাৎ করে প্রচণ্ড বেগে তীব্র বাতাস প্রবাহিত হয়ে বাড়ির টিন উড়িয়ে নিল এবং গাছপালা উপড়ে ফেলল। ঘটনার কিছুদিন পর তুহিন স্কুলের পড়া পড়ছিল। এ সময় সে লক্ষ করলো তার টেবিল নড়ছে এবং ফ্যানগুলো কাঁপছে।
- ক)(1)
নদী শাসন কাকে বলে?
- খ)(2)
সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রবাল ঝুঁকিপূর্ণ-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
তুহিনদের এলাকার প্রথম দুর্যোগটি কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দ্বিতীয় দুর্যোগটির উৎপত্তিস্থল সমুদ্রে হলে কী ধরনের পরিণতি হতে পারে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নদীর পাড়ে পাথর, সিমেন্টের ব্লক, বালির বস্তা, কাঠ বা বাঁশের ঢিবি তৈরি করে, গাছ লাগিয়ে কিংবা স্লুইস গেট নির্মাণ করে নদীর ভাঙন ও বন্যা প্রতিরোধ করাকে নদী শাসন বলে।
- খ)
প্রবাল তাপমাত্রার প্রতি খুব সংবেদনশীল; ২২–২৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এদের জীবনের জন্য উপযোগী। জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ১–২° বেড়ে গেলেই প্রবাল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। এর সাথে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার অভাবও আছে। এ কারণে ১৯৬০ সালের তুলনায় ২০১০ সালে সেন্টমার্টিনের প্রায় ৭০% প্রবাল বিলীন হয়ে গেছে। তাই সেন্টমার্টিনে প্রবাল ঝুঁকিপূর্ণ।
- গ)
তুহিনদের এলাকার প্রথম দুর্যোগটি হলো কালবৈশাখী ঝড় (টর্নেডো)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপকূলীয় নয়, সেখানে হঠাৎ করে প্রচণ্ড বেগের বাতাস বাড়ির টিন উড়িয়ে নেয় ও গাছ উপড়ে ফেলে।
১. সময় ও সৃষ্টি: সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে ঈশান কোণে মেঘ জমে কিছুক্ষণের মধ্যে এই ঝড় শুরু হয়। নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস উপরে উঠলে শীতল বাতাস ছুটে এসে ঝড়ের সৃষ্টি করে।
২. বেগ: কালবৈশাখীতে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার হতে পারে। বেগ ১০০ কিলোমিটারের বেশি হলে একে টর্নেডো বলে।
৩. ক্ষতি: হঠাৎ অল্প সময়ে এটি ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস করে, যা উদ্দীপকের ঘটনার সাথে মিলে যায়।অতএব, উদ্দীপকের প্রথম দুর্যোগটি কালবৈশাখী ঝড় বা টর্নেডো।
- ঘ)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় দুর্যোগে টেবিল নড়া ও ফ্যান কাঁপা ভূমিকম্পের লক্ষণ। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সমুদ্রে হলে সুনামি সৃষ্টি হতে পারে।
১. বিশাল ঢেউ: সমুদ্রতলের প্লেটের সংঘর্ষে ভূমিকম্পে লক্ষ লক্ষ টন পানি বিশাল ঢেউ তৈরি করে। তীরের কাছে এসে তা ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাসের রূপ নেয়।
২. ক্ষয়ক্ষতি: উপকূলীয় এলাকায় ঘরবাড়ি, নৌযান, রাস্তাঘাট ধ্বংস হয় এবং বহু মানুষ ও প্রাণী মারা যায়। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরের তলদেশের ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামিতে বিপুল প্রাণহানি ঘটে।
৩. পরিবেশগত প্রভাব: লোনা পানিতে জমি ও মিঠাপানির উৎস দূষিত হয়, ফলে কৃষি ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তবে বাংলাদেশের উপকূলের অগভীর পানি সুনামির শক্তি কমিয়ে দেয়, ফলে ২০০৪ সালে আমাদের ক্ষতি সামান্য হয়েছিল। তবু উৎপত্তিস্থল সমুদ্রে হলে সুনামির ঝুঁকি থেকেই যায়, তাই সতর্কবাণী ও প্রস্তুতি জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও