হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

দুই সপ্তাহ হলো তপনের বাবা মারা গেছেন। অশৌচ পালন শেষে সে বাবার উদ্দেশ্যে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু হাতে টাকা-পয়সা নেই। তখন সে এক নিকটাত্মীয় নির্মল কুমারের কাছে গেল কিছু টাকা ধার করার জন্য। নির্মল কুমার তাকে বলল, "যেখানে শ্রদ্ধার সংযোগ আছে, সেখানে আড়ম্বর না থাকলেও শ্রাদ্ধ হয়।" তাই সে নিজের সামর্থ অনুযায়ী শ্রাদ্ধ করে।

  1. ক)

    শ্রাদ্ধর প্রবর্তক কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    তপন কিভাবে তার বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান পালন করল? ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    নির্মল বাবুর বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যতদূর জানা যায়, নিমি শ্রাদ্ধের প্রবর্তক।

  2. খ)

    মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে একজনের নামে শ্রদ্ধার সাথে যে দান ও পিণ্ডদান করা হয়, তাকে একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ বলে। অশৌচকাল শেষ হওয়ার পরের দিন এ শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এটি প্রথম করণীয় বলে একে আদ্যশ্রাদ্ধ বা আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধও বলা হয়। এতে মৃত ব্যক্তির নামে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল ইত্যাদি মন্ত্রোচ্চারণসহ উৎসর্গ করা হয়।

  3. গ)

    তপন তার বাবার আদ্যশ্রাদ্ধ (আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ) পালন করেছে।

    আদ্যশ্রাদ্ধের বিধান: শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দান করা হয়, তাই শ্রাদ্ধ। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর অশৌচকাল পালন করতে হয়। এ সময় হবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে সংযম পালন করে শ্রাদ্ধের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। অশৌচান্তে মস্তক মুণ্ডন করে নববস্ত্র পরিধান করতে হয়। এরপর শ্রাদ্ধে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাস্তুপুরুষ, যজ্ঞেশ্বর ও ভূস্বামীর পূজা করা হয়। অতঃপর মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে বিভিন্ন জিনিস উৎসর্গ করে পিণ্ডদান করা হয়। শাস্ত্রে ছয়, আট, ষোলো প্রভৃতি দানের বিধান আছে, যার যেমন সামর্থ্য, সে তেমন দান করতে পারে। শ্রাদ্ধে গীতা ও মহাভারতের বিরাট পর্ব পাঠেরও বিধান আছে।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: তপনের বাবা মারা গেছেন, সে অশৌচ পালন শেষ করে হাতে টাকা না থাকলেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাবার উদ্দেশে শ্রাদ্ধ করেছে। এটি আদ্যশ্রাদ্ধের বিধানেরই প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    নির্মল বাবুর বক্তব্য, 'যেখানে শ্রদ্ধার সংযোগ আছে, সেখানে আড়ম্বর না থাকলেও শ্রাদ্ধ হয়', সম্পূর্ণ যথার্থ।

    শ্রাদ্ধের মূল ভিত্তি: 'শ্রদ্ধা' শব্দের সাথে 'অণ্' প্রত্যয় যোগে 'শ্রাদ্ধ' শব্দ গঠিত। অর্থাৎ শ্রদ্ধার সাথে যা দান করা হয়, তাই শ্রাদ্ধ। পাঠ্যবইয়ে স্পষ্ট বলা আছে, যেখানে শ্রদ্ধার সংযোগ নেই, সেখানে আড়ম্বর থাকলেও শ্রাদ্ধ হয় না।

    ১. শাস্ত্রের বিধান সামর্থ্যভিত্তিক: আদ্যশ্রাদ্ধে ছয়, আট, ষোলো প্রভৃতি বিভিন্ন দানের বিধান আছে এবং যার যেমন সামর্থ্য সে তেমন দান করে। তাই তপন সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রাদ্ধ করে শাস্ত্রের বিধানই মেনেছে।
    ২. শ্রদ্ধাই মুখ্য, ব্যয় গৌণ: শ্রাদ্ধের লক্ষ্য মৃত ব্যক্তির আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। অর্থের জাঁকজমক নয়, অন্তরের ভক্তি ও কৃতজ্ঞতাই এখানে মূল্যবান।
    ৩. সামাজিক দিক: আড়ম্বরের জন্য ঋণ করলে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। অথচ সরল শ্রাদ্ধেও আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা সমব্যথী হয়ে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে।

    সুতরাং, নির্মল বাবুর বক্তব্য শাস্ত্রসম্মত ও যুক্তিযুক্ত। শ্রদ্ধাই শ্রাদ্ধের প্রাণ, আড়ম্বর নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন