যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: মানুষ হলো শান্তি প্রিয় দ্বিপদ জীব।দৃশ্যকল্প-২: মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন বিচারশীল জীব।দৃশ্যকল্প-৩: মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।

  1. ক)

    সংজ্ঞেয় পদ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক গুণের সংজ্ঞা দেয়া যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-৩ এ নির্দেশিত বিষয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়, তাকে সংজ্ঞেয় পদ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক সংজ্ঞায় কোনো পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু মৌলিক গুণসমূহ (যেমন: লাল বর্ণ, সুখ, দুঃখ, মিষ্টি স্বাদ ইত্যাদি) সরল ও অবিভাজ্য হওয়ায় এদেরকে অন্য কোনো সরলতর গুণ বা অংশে বিশ্লেষণ করা যায় না। এদের কোনো আসন্নতম জাতি বা বিভেদক লক্ষণ না থাকায় মৌলিক গুণের সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ 'মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন বিচারশীল জীব' বলা হয়েছে। এখানে যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম লঙ্ঘিত হয়ে 'অবান্তর লক্ষণজনিত অনুপপত্তি' (বা বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি) ঘটেছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুসারে, কোনো পদের সংজ্ঞায় কেবল তার সমগ্র আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হবে; এর চেয়ে বেশি বা কম গুণ উল্লেখ করা যাবে না। মানুষের বিভেদক লক্ষণ হলো 'বুদ্ধিবৃত্তি' এবং আসন্নতম জাতি হলো 'জীব'। কিন্তু দৃশ্যকল্পে 'বিচারশীলতা' নামক অতিরিক্ত একটি গুণ উল্লেখ করা হয়েছে, যা বুদ্ধিবৃত্তি থেকে উদ্ভূত একটি লক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ। কোনো সংজ্ঞায় বিভেদক লক্ষণের অতিরিক্ত এমন লক্ষণ যুক্ত করলে অবান্তর লক্ষণজনিত অনুপপত্তি সৃষ্টি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-৩ এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

    দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে: 'মানুষ হলো শান্তি প্রিয় দ্বিপদ জীব'। এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞা। কারণ এখানে মানুষের মূল বিভেদক লক্ষণ (বুদ্ধিবৃত্তি) উল্লেখ না করে 'দ্বিপদ' এবং 'শান্তিপ্রিয়' নামক অবান্তর গুণ উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এটি যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করে এবং এটি একটি অনুপপত্তিপূর্ণ (আকস্মিক অবান্তর লক্ষণজনিত) সংজ্ঞা।

    অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-৩ এ বলা হয়েছে: 'মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব'। এটি একটি যথার্থ ও নির্ভুল যৌক্তিক সংজ্ঞা। এখানে সংজ্ঞেয় পদ মানুষের আসন্নতম জাতি 'জীবত্ব' এবং বিভেদক লক্ষণ 'বুদ্ধিবৃত্তি' সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কোনো অতিরিক্ত বা কম গুণ যুক্ত হয়নি, ফলে পদের যথার্থ যাত্যর্থ প্রকাশ পেয়েছে।

    অতএব, দৃশ্যকল্প-১ হলো সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনের উদাহরণ, পক্ষান্তরে দৃশ্যকল্প-৩ হলো যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম মেনে তৈরি করা একটি সার্থক ও যথার্থ সংজ্ঞার উদাহরণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন