বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
শিক্ষকের বক্তব্য-১: "১৯শ শতকের বাংলার একটি গ্রামের কথা ভাবো। যেখানে কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলাত। জমিদারদের ভূমিকর আদায়ের অধিকার স্থায়ীভাবে দেওয়ার ফলে তারা নতুন পুঁজিপতি হয়ে ওঠে এবং কৃষকরা করের চাপের কারণে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে।"শিক্ষকের বক্তব্য-২: "রাজ্যে অস্থিরতা ও অবিশ্বাস বাড়ছিল। বিদেশি বণিকরা রাজকার্যে হস্তক্ষেপ শুরু করে। আর রাজপরিবারের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিভক্তি। একদিনের যুদ্ধেই রাজশক্তির পতন ঘটে, বিদেশি শক্তি শাসনের নিয়ন্ত্রণ নেয়- শুরু হয় নতুন যুদ্ধের পথচলা।"
- ক)(1)
দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান কে?
- খ)(2)
কলকাতা নগরীর জন্ম কীভাবে হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শিক্ষকের বক্তব্য-১ এর সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে ব্যবস্থার মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শিক্ষকের বক্তব্য-২ এর যুদ্ধটি বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থায় কী প্রভাব ফেলেছিল- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান।
- খ)
১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ বণিক জব চার্নক হুগলি নদীর তীরে সুতানুটিতে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করেন। পরে ইংরেজরা সুতানুটি, গোবিন্দপুর ও কলিকাতা, এই তিনটি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব অর্জন করে।
সেখানে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করা হয় এবং এই অঞ্চলকে ঘিরে ব্যবসাকেন্দ্র গড়ে ওঠে। এভাবেই ধীরে ধীরে কলকাতা নগরীর জন্ম হয়।
- গ)
শিক্ষকের বক্তব্য-১-এর সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মিল রয়েছে।
১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস এই ব্যবস্থা চালু করেন। এতে জমিদাররা নির্দিষ্ট হারে রাজস্ব দেওয়ার শর্তে চিরস্থায়ীভাবে ভূমির রাজস্ব আদায়ের অধিকার পান। ফলে তারা নতুন ভূস্বামী শ্রেণিতে পরিণত হন। অন্যদিকে করের চাপে কৃষকরা ক্রমশ দরিদ্র হয়ে পড়ে। উদ্দীপকের বর্ণনাও এই ব্যবস্থার ফলাফলের সঙ্গে মিলে যায়।
- ঘ)
শিক্ষকের বক্তব্য-২-এ ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, যেখানে বিদেশি বণিকদের হস্তক্ষেপ, রাজপরিবারের বিভক্তি এবং একদিনের যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ঘটে।
১. রাজনৈতিক প্রভাব: নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটে এবং মীর জাফর ইংরেজদের হাতের পুতুল নবাব হন। ফলে বাংলার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয় এবং ইংরেজরা প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হয়।
২. এ যুদ্ধের পথ ধরেই পরবর্তীতে বক্সারের যুদ্ধ, দেওয়ানি লাভ ও দ্বৈত শাসনের মাধ্যমে ইংরেজ শাসন সুদৃঢ় হয়।
৩. অর্থনৈতিক প্রভাব: কোম্পানি বাণিজ্যে একচেটিয়া সুবিধা পায় এবং নবাবের কোষাগারের সম্পদ ও উপঢৌকন ইংরেজদের হাতে যায়। বাংলার সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে।
৪. তাঁতি ও কারিগররা শোষণের শিকার হয় এবং দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।সুতরাং, পলাশীর যুদ্ধ বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও