ব্যবসায় উদ্যোগ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

পাপড়ি, শিলা ও নীলা মৌখিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় করবেন বলে চুক্তিবদ্ধ হলেন। পিংকি তাদের প্রতিষ্ঠান হতে ২ লক্ষ টাকার পণ্য বাকিতে ক্রয় করেন। বার বার টাকা চাওয়ার পরও বকেয়া টাকা আদায় হচ্ছে না। ফলে তারা মামলা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। অন্যদিকে কিছুদিন পর নীলা তার অংশীদারি ব্যবসায়ের প্রাপ্য অংশ গোপনে পিংকির কাছে হস্তান্তর করেন।

  1. ক)

    অংশীদারি চুক্তিপত্র কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অধিকার থাকা সত্ত্বেও সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করেনা কোন অংশীদার? কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ব্যবসায়টির ক্ষেত্রে কোন ধরনের বিলোপসাধন প্রযোজ্য হবে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির মামলার ফলাফলের যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অংশীদারি চুক্তিপত্র হলো এমন একটি দলিল, যাতে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য, পরিচালনা পদ্ধতি, অংশীদারদের অবস্থান, দায়িত্ব, কর্তব্য ও অধিকার এবং বিরোধ মীমাংসার পদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে এবং যা সকল অংশীদার স্বাক্ষর করেন।

  2. খ)

    যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন এবং চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ পান, কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না, তিনি ঘুমন্ত অংশীদার (Sleeping Partner)। কারণ তিনি ব্যবসায় পরিচালনার দায়িত্ব নেন না, শুধু মূলধন জোগান ও লাভে অংশ নেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকের ব্যবসায়টির ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশে বিলোপসাধন প্রযোজ্য হবে। অংশীদারি আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী কোনো অংশীদার তার প্রাপ্য অংশ তৃতীয় পক্ষকে হস্তান্তর করে চুক্তি ভঙ্গ করলে আদালত ব্যবসায়ের বিলুপ্তি ঘটাতে পারে। উদ্দীপকে নীলা তার প্রাপ্য অংশ গোপনে পিংকির (তৃতীয় পক্ষ) কাছে হস্তান্তর করেছেন, যা চুক্তিভঙ্গ। এতে অংশীদারদের মধ্যে আস্থা নষ্ট হয়। তাই আদালতের নির্দেশে বিলোপসাধন প্রযোজ্য হবে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের তিন অংশীদার মৌখিক সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসায় করছেন। মৌখিক চুক্তি বৈধ, তবে এখানে ব্যবসায়ের নিবন্ধনের উল্লেখ নেই। তাই প্রতিষ্ঠানটি অনিবন্ধিত বলে ধরে মামলার ফলাফল বিশ্লেষণ করা যায়।
    ১. অনিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় চুক্তিতে উল্লিখিত অধিকার আদায়ের জন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না।
    ২. তাছাড়া অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১০০ টাকার বেশি পাওনা আদায়ের জন্য মামলা করতে পারে না। পিংকির কাছে পাওনা ২ লক্ষ টাকা, যা ১০০ টাকার বেশি।
    ৩. সুতরাং পিংকির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আদালতে টিকবে না এবং বকেয়া আদায় করা যাবে না।

    তবে নিবন্ধিত হলে প্রতিষ্ঠান মামলা করে বকেয়া টাকা আদায় করতে পারত। তাই ভবিষ্যতের জন্য ব্যবসায়টি নিবন্ধিত করা উচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন