হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৬
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
তন্ময় একদিন বিকালে বাজারে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সে দেখল একটি ছোট ছেলে দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তখন তন্ময় কাল বিলম্ব না করে তাকে ডাক্তারখানায় নিয়ে সুস্থ করে তাকে বাড়ি পৌছে দিলে ছেলেটির মা করুণাময়ী তাকে আশীর্বাদ করে বললেন 'জীবসেবাই হোক তোমার জীবনের পাথেয়'।
- ক)(1)
জীবের মধ্যে আত্মারূপে কে অবস্থান করেন?
- খ)(2)
হিন্দুধর্মে জীবসেবা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
- গ)(3)
তন্ময় কেন ছেলেটিকে সেবা করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
'জীব সেবাই হোক তোমার জীবনের পাথেয়'- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর (পরমাত্মা) অবস্থান করেন।
- খ)
হিন্দুধর্ম অনুসারে ঈশ্বর জীবাত্মারূপে প্রত্যেক জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই জীবের সেবা করা মানে ঈশ্বরেরই সেবা করা।
জীবসেবা বলতে জীবের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করাকে বোঝায়। ঈশ্বরজ্ঞানে জীবসেবা হিন্দুধর্মের একটি মূল বৈশিষ্ট্য ও অন্যতম নৈতিক শিক্ষা।
এতে মানুষের মধ্যে মানবতা ও পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে ওঠে। তাই হিন্দুধর্মে জীবসেবা এত গুরুত্বপূর্ণ। - গ)
ঈশ্বরই জীবাত্মারূপে প্রতিটি জীবের মধ্যে আছেন। তন্ময় এই বিশ্বাস বা শিক্ষা থেকেই আহত শিশুটিকে সেবা করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল।
সে দেখল ছেলেটি দুর্ঘটনায় যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তখন সে কালবিলম্ব না করে তাকে ডাক্তারখানায় নিয়ে গেল এবং সুস্থ করে বাড়ি পৌঁছে দিল।
সে বুঝেছিল, জীবের সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। এছাড়া অপরের দুঃখে প্রাণ কেঁদে ওঠা এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, অর্থাৎ মানবতাও তাকে এ কাজে অনুপ্রাণিত করেছিল। - ঘ)
'জীবসেবাই হোক তোমার জীবনের পাথেয়' উক্তির অর্থ হলো, জীবসেবাকে জীবনের পথের সম্বল বা লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা। এ বাণী হিন্দুধর্মের মূল শিক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
১. ঈশ্বরের অবস্থান: ঈশ্বর জীবাত্মারূপে সব জীবের মধ্যে বিরাজ করেন। তাই জীবের সেবাই ঈশ্বরের সেবা। 'জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর'।
২. নৈতিক ও মানবিক গুণের বিকাশ: জীবসেবা মানুষকে দয়া, সহানুভূতি ও পরোপকারী করে তোলে। তন্ময় আহত শিশুটিকে সেবা করে এই গুণেরই পরিচয় দিয়েছে।
৩. সামাজিক কল্যাণ: জীবসেবার ফলে সমাজে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বাড়ে। বিপদে মানুষ পাশে দাঁড়ানোর নিশ্চয়তা পায়।
এভাবে জীবসেবা করলে ঈশ্বরের সান্নিধ্য পাওয়া যায় এবং জীবন সার্থক হয়।
অতএব, জীবসেবাকে জীবনের পাথেয় করলে ব্যক্তির আত্মিক উন্নতি ও সমাজের কল্যাণ দুই-ই নিশ্চিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও