বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
নিচের ছকটি দেখো:
- ক)(1)
COP কী?
- খ)(2)
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণ কী ছিলো? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ছক-এ দেখানো প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে জনবলের বিশাল বৈষম্যের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"ছকের বৈষম্যগুলো পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচায়ক"- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
COP (Combined Opposition Party) হলো ১৯৬৪ সালের নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গঠিত পাকিস্তানের সম্মিলিত বিরোধী দল।
- খ)
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মূল কারণ ছিল কাশ্মীর সমস্যা। কাশ্মীরের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ ঘটালে ভারত পাল্টা আক্রমণ করে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়। এ যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান প্রতিরক্ষাহীন ছিল।
- গ)
ছকের তথ্য অনুযায়ী প্রশাসনে মোট ৪২,০০০ কর্মকর্তার মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের ৩৯,১০০ (প্রায় ৯৩.১%) এবং পূর্ব পাকিস্তানের মাত্র ২,৯০০ (প্রায় ৬.৯%)। সামরিক ক্ষেত্রে মোট ২,২১১ জনের মধ্যে পশ্চিমের ২,১২৯ (প্রায় ৯৬.৩%) এবং পূর্বের মাত্র ৮২ (প্রায় ৩.৭%)। এ বিশাল বৈষম্যের কারণ:
১. পাকিস্তানের ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাতে ছিল এবং তারা পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের নিয়োগে অনীহা দেখাত।
২. বাঙালিদের সম্পর্কে ‘যুদ্ধের অযোগ্য জাতি’ ধারণা প্রচার করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ সীমিত রাখা হতো।
৩. রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব ছিল কম। - ঘ)
ছকের বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচায়ক—উক্তিটি যথার্থ।
১. পূর্ব পাকিস্তানে জনসংখ্যা পশ্চিমের চেয়ে বেশি হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনে বাঙালি মাত্র প্রায় ৬.৯% এবং সামরিক বাহিনীতে প্রায় ৩.৭%।
২. যে প্রদেশ রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বাসস্থান, তার প্রতিনিধিত্ব এত কম থাকা পরিকল্পিত অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।
৩. প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে এই বৈষম্য বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভ ও জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগায়, যা ক্রমে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়।
সুতরাং, ছকের বৈষম্য পশ্চিম পাকিস্তানের অবহেলা ও উদাসীনতারই প্রমাণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও