ইসলাম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
ইসলাম প্রশ্ন
আল হেরা বিদ্যালয়ে শিক্ষক পরিষদের সভায় দুটি বিষয় আলোচনা হয়। একজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি মনোনয়নের জন্য ড. জাহাঙ্গীরের নাম প্রস্তাব করেন। তখন সকল শিক্ষক উক্ত প্রস্তাব সমর্থন করেন। অপরদিকে, ইসলাম শিক্ষার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আমির প্রস্তাব করেন, বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে কোনো শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় ৯৫% নম্বর পেলে তাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়, এ বছর থেকে ইসলাম শিক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়ে পুরষ্কার প্রদান করা হোক। প্রধান শিক্ষক মহোদয় দুটি প্রস্তাবই পাস হলো মর্মে ঘোষণা প্রদান করেন। পরবর্তী বছর আল হেরা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার অনেক বৃদ্ধি পায়।
- ক)(1)
'মাউন' বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
শানে-নুযুল জানতে হবে কেন?
- গ)(3)
ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি মনোনয়নের সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াটি ইসলামি শরিয়তের কোন উৎসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞানের ন্যায় ইসলাম শিক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়ে ৯৫% নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াটি চিহ্নিত করে এর প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মাউন শব্দের অর্থ ছোটখাটো নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিস, যা মানুষ সাধারণত একে অপরকে ধার হিসেবে দেয়। কুরআনের ১০৭ নম্বর সূরার নামও আল-মাউন।
- খ)
শানে নুযুল জানা প্রয়োজন, কারণ এর মাধ্যমে আয়াত বা সূরা কোন প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছিল তা বোঝা যায়। এতে আয়াতের সঠিক অর্থ ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করা সহজ হয় এবং ভুল ব্যাখ্যার আশঙ্কা থাকে না। বিধানের হিকমত জানা যায়, ফলে আমল করা সহজ হয়। এজন্য কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে শানে নুযুল জানা আবশ্যক।
- গ)
ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি মনোনয়নের প্রক্রিয়াটি ইসলামি শরিয়তের ইজমা-র সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইজমা হলো কোনো যুগের মুজতাহিদগণের কোনো শরয়ি বিষয়ে ঐকমত্য। উদ্দীপকে একজন শিক্ষক ড. জাহাঙ্গীরের নাম প্রস্তাব করলে সকল শিক্ষক তা সমর্থন করেন। এ ঐকমত্যের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি ইজমার অনুরূপ। শরিয়তের উৎস হিসেবে ইজমা কুরআন ও হাদিসের পরে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
- ঘ)
প্রক্রিয়াটি হলো কিয়াস।
মাওলানা আমির বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ৯৫% নম্বরের পুরস্কারের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে ইসলাম শিক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়ে একই পুরস্কারের প্রস্তাব করেছেন। কুরআন-হাদিসে সরাসরি উল্লেখ নেই এমন বিষয়ে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে কিয়াস বলে।
প্রয়োজনীয়তা:
১. নতুন নতুন সমস্যার সমাধানে কুরআন, হাদিস ও ইজমার মূলনীতি অনুসরণ করে বিধান নির্ণয় করা যায়।
২. যুগের চাহিদা ও পরিবর্তনের সঙ্গে ইসলামকে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও গতিশীল রাখে।
৩. ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করে। যেমন উদ্দীপকে সব বিষয়ের শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পেয়েছে, যার ফলে জিপিএ-৫ এর হার বেড়েছে।সুতরাং, কিয়াস শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং সমকালীন সমস্যার সমাধানে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও