বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: জনাব রাশেদ সাহেব দীর্ঘদিন দেশের বাইরে শিক্ষা লাভ করে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে গ্রামের লোকদের অবস্থা দেখে মর্মাহত হন। কারণ গ্রামের লোকেরা অশিক্ষা, অনাচার ও কুসংস্কারে লিপ্ত। এসব থেকে তিনি গ্রামের লোকদের মুক্ত করার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।দৃশ্যপট-২: অনাথ আশ্রম থেকে রহিমকে এক নিঃসন্তান দম্পতি দত্তক নেন। মৃত্যুর আগে সেই দম্পতি তাদের সমস্ত সম্পত্তি রহিমকে দান করেন। বিশাল সম্পত্তির মালিক হলেও রহিম অত্যন্ত সহজ সরল জীবন যাপন করতেন। তার সম্পত্তি তিনি দরিদ্র মুসলমান শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, দাতব্য চিকিৎসালয় এবং অন্যান্য জনহিতকর কাজে দান করেন।

  1. ক)

    'নীল বিদ্রোহ' কী?

    (1)
  2. খ)

    "বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন ছিল একটি ব্রিটিশ বিরোধ আন্দোলন"- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    রাশেদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে কোন আন্দোলনের প্রভাব লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, বাংলার মুসলিম সমাজে শিক্ষা বিস্তারে রহিমের ন্যায় একজন মহান ব্যক্তির ব্যাপক অবদান ছিল? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নীল বিদ্রোহ হলো ১৮৫৯–৬০ খ্রিষ্টাব্দে নীলকর সাহেবদের জোরজবরদস্তি নীলচাষ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকদের বিদ্রোহ।

  2. খ)

    ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন (১৭৬০–১৮০০) বাংলার ফকির ও সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের ওপর অন্যায় কর আরোপ করে এবং তীর্থযাত্রা ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা দেয়। এর প্রতিবাদে মজনু শাহ, ভবানী পাঠক প্রমুখের নেতৃত্বে তারা কোম্পানির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেন। তাই একে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন বলা হয়।

  3. গ)

    রাশেদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে ফরায়েজি আন্দোলন-এর প্রভাব লক্ষ করা যায়।

    রাশেদ সাহেব দীর্ঘদিন দেশের বাইরে শিক্ষা লাভ করে দেশে ফিরে গ্রামের মানুষকে অশিক্ষা, অনাচার ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেন। হাজি শরিয়তুল্লাহও দীর্ঘদিন মক্কায় অবস্থান করে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পর দেশে ফিরে মুসলমানদের ইসলামবিরোধী কুসংস্কার ও অনাচার দূর করে ফরজ পালনের আহ্বান জানান। এই সংস্কারমূলক উদ্যোগের সঙ্গে রাশেদ সাহেবের কাজের মিল আছে।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, বাংলার মুসলিম সমাজে শিক্ষা বিস্তারে রহিমের ন্যায় মহান ব্যক্তির ব্যাপক অবদান ছিল। রহিমের মধ্যে হাজি মুহম্মদ মুহসিনের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।

    ১. মুহসিন বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েও সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন এবং সম্পত্তি জনকল্যাণে উৎসর্গ করেন। তাঁর দানে ‘মুহসিন ফান্ড’ গঠিত হয়।
    ২. এই তহবিলের অর্থে হুগলি মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় এবং দরিদ্র মুসলমান শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পায়।
    ৩. তহবিল থেকে দাতব্য চিকিৎসালয় ও অন্যান্য জনহিতকর কাজও চালু থাকে।

    সুতরাং, মুহসিনের মতো ব্যক্তির দানে মুসলিম সমাজে শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক অবদান রাখা সম্ভব হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন