কৃষিশিক্ষা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

রাজশাহীর টুটুল মিয়া তার একটি পুকুরে ৫. কেজি পরিমাণ মাছের পোনা ছাড়েন। তিনি ৬০ কেজি পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করে ৬ মাস পর ৪৫ কেজি মাছ পান। অপরদিকে প্রতিবেশী করিম শেখ ১০ কেজি পোনামাছ ছেড়ে একই সময়ে ৯৫ কেজি মাছ আহরণ করেন। তিনি উক্ত সময়ে সর্বমোট ১৬০ কেজি খাদ্য সরবরাহ করেন।

  1. ক)

    মাছ কখন খাবার গ্রহণ করে?

    (1)
  2. খ)

    সম্পূরক খাদ্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো ।

    (2)
  3. গ)

    টুটুল মিয়ার উৎপাদিত মাছের FCR নির্ণয় করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    মৎস্য চাষে টুটুল মিয়া ও করিম শেখের মধ্যে কে বেশি লাভবান হবেন? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মাছ সাধারণত দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল ও বিকালে, ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য গ্রহণ করে।

  2. খ)

    পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য বেশি সংখ্যক মাছের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি যে খাদ্য বাইরে থেকে দেওয়া হয়, তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে। এটি মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও ভালো স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। কম সময়ে বেশি ওজন পাওয়া যায় এবং উৎপাদন বাড়ে। এতে সঠিক পুষ্টি পেয়ে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

  3. গ)

    FCR (Feed Conversion Ratio) হলো মাছের ওজন এক কেজি বাড়াতে যত কেজি খাদ্য লাগে তার অনুপাত।

    FCR=মোট খাদ্যমাছের ওজন বৃদ্ধি\text{FCR} = \frac{\text{মোট খাদ্য}}{\text{মাছের ওজন বৃদ্ধি}}

    টুটুল মিয়ার ক্ষেত্রে:
    পোনার ওজন = ৫ কেজি, আহরিত মাছ = ৪৫ কেজি
    ওজন বৃদ্ধি = 45−5=4045 - 5 = 40 কেজি
    খাদ্য = ৬০ কেজি

    FCR=6040=1.5\text{FCR} = \frac{60}{40} = 1.5

    অতএব, টুটুল মিয়ার FCR = ১.৫।

  4. ঘ)

    করিম শেখের FCR বের করে তুলনা করা হলো।

    করিম শেখ: ওজন বৃদ্ধি = 95−10=8595 - 10 = 85 কেজি, খাদ্য = ১৬০ কেজি
    FCR=16085≈1.88\text{FCR} = \frac{160}{85} \approx 1.88

    টুটুল মিয়ার FCR = ১.৫ (পূর্বের হিসাব)।

    বিশ্লেষণ:
    ১. FCR যত কম, মাছ তত কম খাদ্যে ওজন বাড়ায়। টুটুলের ১ কেজি মাছ উৎপাদনে লাগে ১.৫ কেজি খাদ্য, আর করিমের লাগে প্রায় ১.৮৮ কেজি।
    ২. মাছ চাষে মোট খরচের বড় অংশ খাদ্য। তাই কম FCR হলে প্রতি কেজি মাছের উৎপাদন খরচ কম হয়।
    ৩. করিম মোট ওজন বেশি পেয়েছেন (৮৫ কেজি, টুটুলের ৪০ কেজি), তবে এজন্য খাদ্যও বেশি খরচ হয়েছে।

    সুতরাং, খাদ্য রূপান্তরের দক্ষতা বিবেচনায় টুটুল মিয়া প্রতি কেজি মাছে বেশি লাভবান হবেন। তবে বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে মোট লাভ আলাদা হতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন