পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

ক' ও 'খ' দেশ ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশে অবস্থিত। 'ক' রাষ্ট্র তার নিকটবর্তী দুর্বল 'গ' রাষ্ট্রকে আক্রমণ করে সহজেই রাষ্ট্রটি দখল করে নেয়। অন্যদিকে 'খ' রাষ্ট্রটি তার পার্শ্ববর্তী অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়। আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে রাষ্ট্রগুলো একসাথে নিজেদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে।

  1. ক)

    রাষ্ট্র কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পরিবারকে শাশ্বত বিদ্যালয় বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক 'গ' রাষ্ট্রকে দখল করার কৌশলটি রাষ্ট্র সৃষ্টির কোন মতবাদকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত অন্যান্য দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য 'খ' রাষ্ট্রের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রাষ্ট্র হলো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী একটি সংগঠিত জনসমাজ, যার নিজস্ব সরকার আছে এবং যা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ক্ষেত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।

  2. খ)

    শিশু পরিবারেই প্রথম ভাষা, আচরণ, নৈতিকতা ও সামাজিক রীতিনীতি শেখে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে এবং পরেও সে পরিবার থেকে শিক্ষা পায়। মা-বাবা ও অন্য সদস্যদের কাছ থেকে এই শিক্ষা জীবনের সব স্তরে চলতে থাকে। এই চিরস্থায়ী ও জীবনব্যাপী শিক্ষার কারণে পরিবারকে শাশ্বত বিদ্যালয় বলা হয়।

  3. গ)

    'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক 'গ' রাষ্ট্রকে দখল করার কৌশলটি রাষ্ট্র সৃষ্টির শক্তি মতবাদকে নির্দেশ করে।

    ব্যাখ্যা: এই মতবাদ অনুযায়ী যুদ্ধ ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে; শক্তিশালী গোষ্ঠী দুর্বলদের পরাজিত করে নিজেদের অধীনে এনে রাষ্ট্র গঠন করেছে। উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্র তার নিকটবর্তী দুর্বল 'গ' রাষ্ট্রকে আক্রমণ করে সহজেই দখল করে নিয়েছে। এটি শক্তি মতবাদের মূল কথার সঙ্গে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'খ' রাষ্ট্র তার পার্শ্ববর্তী অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি দৃষ্টান্ত।

    'খ' রাষ্ট্রের ভূমিকা:
    ১. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: আর্থিক সহায়তায় দুর্বল রাষ্ট্রগুলো অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ করতে পারে, ফলে তাদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
    ২. নিরাপত্তা: সহায়তা পেয়ে রাষ্ট্রগুলো একসঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এতে আঞ্চলিক ঐক্য ও পারস্পরিক আস্থা বাড়ে।
    ৩. শান্তি ও সম্প্রীতি: সহযোগিতামূলক সম্পর্ক যুদ্ধ ও দখলের প্রবণতা কমিয়ে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে।

    সুতরাং, 'খ' রাষ্ট্র 'ক' রাষ্ট্রের মতো শক্তি প্রয়োগ না করে সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন