পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: জনাব রহমান একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি। তিনি আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।দৃশ্যপট-২: জনাব আহসান মাঠ প্রশাসনের একজন সুদক্ষ কর্মকর্তা। তিনি উপ-সচিবের পদমর্যাদাসম্পন্ন। সরকারের সকল নির্দেশনা, উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা তার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
- ক)(1)
বাজেট কাকে বলে?
- খ)(2)
প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিপরিষদের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব রহমান সরকারের কোন বিভাগের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"জনাব আহসান স্থানীয় প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
একটি অর্থবছরের জন্য সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত প্রাক্কলনকে বাজেট (Budget) বলে।
- খ)
প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদের নেতা ও সরকারের প্রকৃত শাসনক্ষমতার অধিকারী। তিনিই মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মনোনীত করেন এবং তাঁদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। মন্ত্রিপরিষদের সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন, সকল মন্ত্রণালয়ের কাজে সমন্বয় সাধন করেন এবং তাঁর পদত্যাগে পুরো মন্ত্রিপরিষদের পতন ঘটে। এ কারণে সরকারের সকল কাজ তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হয় বলে তাঁকে মন্ত্রিপরিষদের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়।
- গ)
জনাব রহমান নির্বাচিত প্রতিনিধি অর্থাৎ সংসদ সদস্য। তিনি আইন প্রণয়নে অংশ নেন, যা আইন বিভাগের কাজ। পাশাপাশি তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, অর্থাৎ মন্ত্রী হিসেবে শাসন বিভাগের কাজও করছেন।
ব্যাখ্যা:
১. বাংলাদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু আছে। এখানে মন্ত্রীরা সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই নিযুক্ত হন।
২. ফলে একই ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়ন করেন এবং মন্ত্রী হিসেবে আইন বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন।
৩. মন্ত্রী হিসেবে তিনি মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণ ও তদারকি করেন এবং সংসদের কাছে দায়ী থাকেন।অতএব, জনাব রহমান সরকারের আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ উভয়ের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট।
- ঘ)
দৃশ্যপট-২-এর জনাব আহসান উপ-সচিব পদমর্যাদার মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, যিনি সরকারি নির্দেশনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি জেলা প্রশাসক (DC), যিনি জেলা প্রশাসনের প্রধান এবং স্থানীয় প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
১. সরকারের প্রতিনিধি: তিনি জেলায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের নীতি ও নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন।
২. আইনশৃঙ্খলা রক্ষা: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিনি জেলার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির কাজ তত্ত্বাবধান করেন।
৩. উন্নয়ন ও সমন্বয়: জেলার বিভিন্ন বিভাগের উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয় করেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ পরিচালনা করেন।
৪. রাজস্ব ও ভূমি প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব আদায় ও ভূমি ব্যবস্থাপনা তদারকি করেন, নির্বাচনের সময় রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বও পালন করেন।সুতরাং, জনাব আহসান জেলা প্রশাসক হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও