অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিম্নরূপ:পরিবার পরিলল্পনা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রভৃতির মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো যায়।
বছর | ১৯৭৪ | ১৯৮১ | ১৯৯১ | ২০০১ | ২০১১ | ২০২১
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার | ২.৭০ | ২.৩৬ | ২.১৭ | ১.৪৮ | ১.৩৬ | ১.৩৭
- ক)(1)
অধিক জনসংখ্যা কী?
- খ)(2)
কীভাবে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা যায়?
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুযায়ী স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চিত্র ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখনও অধিক? কীভাবে এ হার নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের বিদ্যমান সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা যখন বেশি হয় এবং যার ফলে মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায়, তখন তাকে অধিক জনসংখ্যা বা জনাধিক্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শিক্ষা, উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মমুখী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে জনসম্পদে রূপান্তর করা যায়।
শুধু জনসংখ্যার সংখ্যাবৃদ্ধি কোনো দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সেই জনগণকে যদি বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করা যায় এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়, তবে তারা উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত হয়। এতে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সারণিতে স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল সর্বোচ্চ ২.৭০%। এরপরের দশকগুলোতে সরকারের নানামুখী পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম, শিক্ষা বিস্তার ও জনসচেতনতার কারণে বৃদ্ধির হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ১৯৮১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২.৩৬% এবং ১৯৯১ সালে তা আরও কমে হয় ২.১৭%।
পরবর্তীতে ২০০১ সালে বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ১.৪৮% এবং ২০১১ সালে তা আরও কমে হয় ১.৩৬%। তবে সর্বশেষ ২০২১ সালের তথ্য অনুসারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১.৩৭% হয়েছে।
অতএব, স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী প্রবণতা প্রদর্শন করলেও ২০২১ সালে এসে তা প্রায় স্থিতিশীল বা সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এ চিত্র নির্দেশ করে যে দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় অনেক কমলেও সামগ্রিক আয়তন ও সম্পদের তুলনায় এই হার এখনও অধিক।
কারণ, বাংলাদেশে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার প্রায় ১.৩৭% হলেও দেশের মোট জনসংখ্যা ইতিমধ্যে প্রায় ১৭ কোটিতে পৌঁছেছে। ফলে বৃদ্ধির হার ১.৩৭% হলেও প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক নতুন মুখ জনসংখ্যার সাথে যুক্ত হচ্ছে, যা সীমিত ভূমি ও সম্পদের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
উদ্দীপকের নির্দেশনাসহ নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে এ হার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়:
১. পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের জোরদারকরণ: পরিবার পরিকল্পনার উপকরণ সহজলভ্য করা এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া।
২. নারী শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি: নারী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। শিক্ষিত নারীদের মধ্যে সচেতনতা বেশি থাকে, যা সন্তান গ্রহণের হার কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৩. বাল্যবিয়ে ও বহুবিবাহ রোধ: আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীর ক্ষমতায়ন: নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে তারা দেরিতে বিয়ে ও সীমিত পরিবার গঠনে আগ্রহী হয়।
৫. ব্যাপক প্রচার ও জনসচেতনতা: জনসংখ্যা বৃদ্ধির কুফল এবং ছোট পরিবারের সুফল তুলে ধরে গণমাধ্যম ও ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো।অতএব, সীমিত সম্পদ ও ভৌগোলিক আয়তনের বিবেচনায় এ হার নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা ও সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও