হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সুবিনয় বাবু একজন ধার্মিক ব্যক্তি। তিনি একজন পূর্ণাবতারের আরাধনা করেন। পূর্ণবাতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি ভক্তের কাছে ভগবান। অন্যদিকে, ডা. বিশ্বজিৎ একজন নামকরা সার্জন। অপারেশন থিয়েটারে তার হাতে কখনো কোনো রোগীর মৃত্যু ঘটেনি। এজন্য সবাই তাকে একজন মহান চিকিৎসক হিসেবে সম্মান করে।
- ক)(1)
অংশাবতার- কাকে বলে?
- খ)(2)
'যত মত, তত পথ'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সুবিনয় বাবু পূর্ণাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন'- কথাটি পাঠের আলোকে বুঝিয়ে লেখো।
- ঘ)(4)
ডা. বিশ্বজিতের মধ্যে প্রাচীন ভারতের যে চিকিৎসকের আদর্শ লক্ষ করা যায়, তার তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ভগবানের অপূর্ণাঙ্গ অবতারকে, অর্থাৎ যে অবতারে ভগবানের সমস্ত শক্তি ও গুণ থাকে না, তাঁকে অংশাবতার বলে। যেমন মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ ইত্যাদি।
- খ)
'যত মত, তত পথ' উক্তিটি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের। এর অর্থ হলো ধর্মীয় মত ও পথ ভিন্ন হলেও সকল মানুষের উদ্দেশ্য ও গন্তব্য এক, তা হলো ঈশ্বর লাভ। অর্থাৎ নদী যেমন ভিন্ন পথে প্রবাহিত হয়ে সাগরে মেশে, তেমনি সকল ধর্মমত একই ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যায়। এই উক্তি সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।
- গ)
সুবিনয় বাবু পূর্ণাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন, কথাটি যথার্থ।
ভগবান বিষ্ণু যখন বিভিন্ন রূপে পৃথিবীতে অবতরণ করেন তখন তাঁকে অবতার বলে। অবতার দুই রকম: পূর্ণাবতার ও অংশাবতার। ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন তখন তাঁকে পূর্ণাবতার বলে। ভগবানের সমস্ত শক্তি ও গুণ পূর্ণাবতারের মধ্যে থাকে। শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের পূর্ণাবতার, কারণ ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে ছিল।
গীতায় (৪/৭-৮) শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যখন ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের উত্থান ঘটে তখন সজ্জনদের রক্ষা, দুর্জনদের বিনাশ ও ধর্ম সংস্থাপনের জন্য তিনি যুগে যুগে আবির্ভূত হন। তিনি কংস, জরাসন্ধ, শিশুপাল ও দুর্যোধনের মতো অত্যাচারীদের বিনাশ করে শান্তি স্থাপন করেন। তিনি ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিয়েছেন। দুষ্টের কাছে তিনি ভয়ঙ্কর, সজ্জনের কাছে শান্ত, ভক্তের কাছে ভগবান।
উদ্দীপকেও বলা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণ ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিয়েছেন এবং ভক্তের কাছে ভগবান। তাই সুবিনয় বাবু পূর্ণাবতার শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন বলা যথার্থ।
- ঘ)
ডা. বিশ্বজিৎ নামকরা সার্জন, যার হাতে অপারেশন থিয়েটারে কখনো রোগীর মৃত্যু ঘটেনি। তাঁর মধ্যে প্রাচীন ভারতের মহান চিকিৎসক সুশ্রুতের আদর্শ লক্ষ করা যায়। সুশ্রুতের জীবন ও কর্মের তাৎপর্য অপরিসীম।
সুশ্রুত খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৬০০ অব্দে বারাণসীতে গঙ্গার তীরে বাস করতেন। তাঁর পিতা বিশ্বামিত্র মুনি। তিনি দিবোদাসের নিকট আয়ুর্বেদ শিখে 'সুশ্রুতসংহিতা' রচনা করেন। তিনি প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন, তাই তাঁকে 'ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক' বলা হয়।
১. শল্যবিদ্যায় অবদান: তিনি তাঁর গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি এবং ১২০টি চিকিৎসাযন্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। ডা. বিশ্বজিতের অপারেশনের দক্ষতা এই শল্যচিকিৎসার ধারারই প্রতিফলন।
২. সংহিতার গুরুত্ব: সুশ্রুতসংহিতা চার ভাগে বিভক্ত (সূত্রস্থান, শারীরস্থান, চিকিৎসিতস্থান ও কল্পস্থান)। এতে শল্যতন্ত্র, রোগের লক্ষণ, ঔষধ, অস্থি চিকিৎসা, পথ্যাপথ্য ইত্যাদি বিস্তারিত বর্ণিত আছে। আয়ুর্বেদ মতে চিকিৎসা করতে হলে এই গ্রন্থের বিশেষ জ্ঞান থাকতে হয়।
৩. আধুনিক যুগেও প্রাসঙ্গিকতা: তাঁর বর্ণিত যন্ত্রগুলোর আধুনিকায়ন ঘটিয়ে পাশ্চাত্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রন্থটি ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে আরবি ভাষায় অনূদিত হয়ে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল।
৪. মানবকল্যাণ: সুশ্রুত মানবজাতির রোগমুক্তির জন্য কাজ করেছেন। ডা. বিশ্বজিৎকে সবাই যে মহান চিকিৎসক হিসেবে সম্মান করে, তা এই মানবসেবারই ফল।সুতরাং, ডা. বিশ্বজিতের মধ্যে সুশ্রুতের আদর্শ প্রতিফলিত। সুশ্রুতের অবদান চিকিৎসাশাস্ত্রে চিরকাল গুরুত্বপূর্ণ এবং মানবকল্যাণের প্রেরণা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও