গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

রত্নার তিন বছরের মেয়ে মাহি খুবই চঞ্চল। সারাদিন ছোটাছুটি করে, স্থির হয়ে বসে না। রত্না তাকে দুষ্টামির জন্য প্রায়ই ধমক দেন, বকাবকি করেন। অনেক সময় মাহি মায়ের ভয়ে চুপ করে থাকে। অন্যদিকে সালমা ও তার স্বামী ইমরান সারাদিন অফিস করে বাসায় এসে তাদের ছোট বাচ্চাটিকে নিজ হাতে খাওয়ায়। ইমরান যতক্ষণ বাসায় থাকে বাচ্চাটার সাথে খেলা করে। রাতের বেলায় বাচ্চাটাকে নিজেদের কাছে নিয়ে ঘুমায়। এতে করে বাচ্চাটি নিরাপদ বোধ করে।

  1. ক)

    নবজাতক কালের বয়সসীমা কত?

    (1)
  2. খ)

    ভারসাম্য রাখতে পারা কোন ধরনের বিকাশ—ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রত্নার শিশু পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন নীতিটির অভাব পরিলক্ষিত হয়—ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিশুটির সুষ্ঠু বিকাশে সালমা ও ইমরানের ভূমিকাটি কি পর্যাপ্ত? সপক্ষে মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নবজাতক কালের বয়সসীমা জন্ম থেকে দুই সপ্তাহ।

  2. খ)

    ভারসাম্য রাখতে পারা শারীরিক বিকাশের অন্তর্ভুক্ত।

    শারীরিক বিকাশ বলতে দেহের পেশি, হাড় ও স্নায়ুর পরিপক্বতা এবং এদের সমন্বয়ে নানা কাজ করার ক্ষমতা বোঝায়। শিশু প্রথমে মাথা তোলে, তারপর বসে, দাঁড়ায় ও হাঁটে। এসব কাজে দেহের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। পেশি ও স্নায়ু যত পরিপক্ব হয়, শিশু তত ভালোভাবে ভারসাম্য রাখতে পারে।

  3. গ)

    রত্নার শিশু পরিচালনায় স্নেহ-ভালোবাসা ও সহানুভূতির নীতি এবং শিশুর স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যকে মেনে নেওয়ার নীতির অভাব দেখা যায়।

    তিন বছর বয়সী শিশু স্বভাবতই চঞ্চল ও কৌতূহলী হয়। ছোটাছুটি করা তার শারীরিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। রত্না এটি বুঝতে না পেরে মাহিকে বারবার ধমক দেন ও বকাবকি করেন। ফলে মাহি ভয়ে চুপ হয়ে যায়। এতে তার আত্মবিশ্বাস, স্বতঃস্ফূর্ততা ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। শিশু পরিচালনায় ধৈর্য, ভালোবাসা ও বুঝিয়ে বলার নীতি অনুসরণ করা উচিত।

  4. ঘ)

    শিশুটির সুষ্ঠু বিকাশে সালমা ও ইমরানের ভূমিকা অনেকাংশে পর্যাপ্ত বলে আমি মনে করি। কারণ:

    ১. স্নেহ ও সময় দেওয়া: দুজনেই অফিসের পর শিশুকে সময় দেন। ইমরান বাসায় থাকলে তার সাথে খেলেন। এতে শিশুর আবেগীয় ও সামাজিক বিকাশ ঘটে।
    ২. নিরাপত্তাবোধ: রাতে শিশুকে কাছে নিয়ে ঘুমানোর ফলে সে নিরাপদ বোধ করে। এটি শিশুর মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
    ৩. যত্ন ও খাওয়ানো: নিজ হাতে খাওয়ানোর ফলে শিশুর খাদ্য গ্রহণ ও পুষ্টির দিকে নজর রাখা সম্ভব হয় এবং বাবা-মায়ের সাথে বন্ধন গড়ে ওঠে।
    ৪. খেলার মাধ্যমে শেখা: খেলার মাধ্যমে শিশুর ভাষা, মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে।

    তবে নিয়মিত টিকা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বয়স উপযোগী শিক্ষার সুযোগও থাকা দরকার। সুতরাং, আবেগীয় ও সামাজিক দিক থেকে সালমা ও ইমরানের ভূমিকা পর্যাপ্ত এবং শিশুর সুষ্ঠু বিকাশের সহায়ক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন