অর্থনীতি • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি প্রশ্ন
প্রেক্ষাপট-১: জনাব আকাশ একজন সরকারি কর্মকর্তা। চলতি বছর তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি যে পেনশন পান তা দ্বারা গ্রাম ও শহরে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তার নিকট যে অর্থ আছে তা দ্বারা গ্রাম ও শহর উভয় জায়গায় বাড়ি নির্মাণ সম্ভব না। তাই তিনি গ্রামে বাড়ি নির্মাণ না করে শহরে বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রেক্ষাপট-২: জনাব রাকিব পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পেয়ে বিদেশ চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খোলেন। এর জন্য তাকে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নিতে হয়নি। স্বাধীনভাবে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করে অল্প সময়ে প্রচুর অর্থের মালিক হয়ে গেলেন। তার লক্ষ্য ব্যবসাকে আরো সম্প্রসারিত করা-।
- ক)(1)
বেকার কাকে বলে?
- খ)(2)
সরকার কখন অদৃশ্য বাজার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রেক্ষাপট-১ এ অর্থনীতির কোন মৌলিক নীতিটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রেক্ষাপট-২ এ নির্দেশিত অর্থব্যবস্থাটি চিহ্নিত করে উক্ত অর্থব্যবস্থায় দ্রব্যের দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কর্মক্ষম ও কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ খুঁজেও না পেলে তাকে বেকার বলে।
- খ)
অদৃশ্য বাজার ব্যবস্থায় চাহিদা ও যোগানের মাধ্যমে বাজার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে। কিন্তু বাজার ব্যর্থ হলে সরকার হস্তক্ষেপ করে। যেমন একচেটিয়া কারবার দ্বারা ভোক্তা শোষিত হলে, প্রতিরক্ষা ও রাস্তাঘাটের মতো সরকারি সেবা সরবরাহের প্রয়োজন হলে, কিংবা আয়বৈষম্য ও দামের অস্থিরতা দেখা দিলে সরকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এতে জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়।
- গ)
প্রেক্ষাপট-১ এ অর্থনীতির সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost) ও বাছাইয়ের নীতি প্রকাশ পেয়েছে।
জনাব আকাশের অর্থ সীমিত, কিন্তু তিনি গ্রাম ও শহর দুই জায়গায় বাড়ি করতে চান। সীমিত অর্থ দিয়ে দুটি বাড়ি সম্ভব নয় বলে তাঁকে একটি বেছে নিতে হয়েছে। তিনি শহরে বাড়ি নির্মাণ বেছে নিয়েছেন, ফলে গ্রামে বাড়ি নির্মাণের সুযোগ ছাড়তে হয়েছে। এই ত্যাগ করা সর্বোত্তম বিকল্পটিই (গ্রামে বাড়ি) তাঁর সুযোগ ব্যয়।
এভাবে অভাব অসীম ও সম্পদ সীমিত হওয়ায় বাছাই করতে গিয়ে সুযোগ ব্যয়ের সৃষ্টি হয়।
- ঘ)
প্রেক্ষাপট-২ এ জনাব রাকিব কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই স্বাধীনভাবে ব্যবসা করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেছেন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চান। এগুলো ধনতান্ত্রিক (বাজার) অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য।
এই ব্যবস্থায় দ্রব্যের দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া:
১. চাহিদা ও যোগানের ক্রিয়া: ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাজারে দাম নির্ধারিত হয়। সরকার সাধারণত দামে হস্তক্ষেপ করে না।
২. দাম বাড়া ও কমা: চাহিদা যোগানের চেয়ে বেশি হলে দাম বাড়ে, আর যোগান চাহিদার চেয়ে বেশি হলে দাম কমে।
৩. ভারসাম্য দাম: চাহিদা ও যোগান সমান হলে যে দাম পাওয়া যায়, সেটিই ভারসাম্য দাম।সুতরাং ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া বাজারের চাহিদা ও যোগানের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও