হিন্দু ধর্ম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

উৎপল বাবু একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটি ধর্ম ও বিজ্ঞানকে একীভূত করে আদর্শ মানুষ তৈরিতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, শেখর বাবু দেব-দেবীর আরাধনার মাধ্যমে ঈশ্বরের সান্নিধ্য পেতে চান। তিনি মনে করেন, যে যেভাবেই আরাধনা করুক না কেন শেষ পর্যন্ত এক ঈশ্বরের নিকটই পৌছাবে।

  1. ক)

    কাকে দাহিকাশক্তির অধিকারী বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তিহীন বিচারেন ধর্মহানি: প্রজায়তে' ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উৎপল বাবুর সংগঠনটির সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন সংগঠনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    শ্রীরামকৃষ্ণের উপদেশের আলোকে শেখর বাবুর চিন্তার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অগ্নিকে দাহিকা শক্তির অধিকারী বলা হয়।

  2. খ)

    'যুক্তিহীনবিচারেণ ধর্মহানিঃ প্রজায়তে' কথাটির অর্থ হলো যুক্তিহীন বিচারে ধর্মের হানি ঘটে। যুক্তি ও বিচারবুদ্ধি ছাড়া অন্ধভাবে কোনো ধর্মীয় বিধি-বিধান বা আচার মেনে চললে ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও কল্যাণ নষ্ট হয়। তাই শাস্ত্র ও বিধি-বিধান যুক্তির আলোকে বুঝে পালন করা উচিত। ঊনবিংশ শতকে বিজ্ঞানমনস্ক সুধীজন এই কারণেই প্রচলিত ধর্মীয় আচারের সংস্কারের কথা ভেবেছিলেন।

  3. গ)

    উৎপল বাবুর সংগঠনটির সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকের সৎসঙ্গ সংগঠনের মিল রয়েছে।

    ব্যাখ্যা:
    ১. ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। সৎসঙ্গের আদর্শ হলো, ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, বরং বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র। ধর্ম ও বিজ্ঞানকে একত্রিত করে জীবন গঠনই সৎসঙ্গীদের আদর্শ।
    ২. সৎসঙ্গ আদর্শ মানুষ, আদর্শ গৃহী ও আদর্শ ধর্মযাজক গড়ে তুলতে চায়। এর মূল স্তম্ভ হলো শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ।
    ৩. উদ্দীপকে উৎপল বাবুর সংগঠনও ধর্ম ও বিজ্ঞানকে একীভূত করে আদর্শ মানুষ তৈরিতে সাহায্য করে। তাই এটি সৎসঙ্গের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    শেখর বাবু মনে করেন, যে যেভাবেই আরাধনা করুক শেষ পর্যন্ত এক ঈশ্বরের কাছেই পৌঁছাবে। শ্রীরামকৃষ্ণের উপদেশের আলোকে তাঁর চিন্তা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

    ১. শ্রীরামকৃষ্ণের বিখ্যাত উপদেশ 'যত মত, তত পথ'। অর্থাৎ ধর্মীয় মত ও পথ ভিন্ন হলেও সব মানুষের গন্তব্য একই, ঈশ্বর লাভ। শেখর বাবুর বিশ্বাসও এর সঙ্গে মিলে যায়।
    ২. শ্রীরামকৃষ্ণ নিজে কালীর সাধক হয়েও বৈষ্ণব, ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মমতে সাধনা করে উপলব্ধি করেছেন যে সব পথই একই ঈশ্বরের দিকে নিয়ে যায়। সাকার দেবী কালী আর নিরাকার ব্রহ্ম তাঁর কাছে অভিন্ন ছিলেন।
    ৩. হিন্দুধর্ম মূলত একেশ্বরবাদী; দেব-দেবীরা একই ঈশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন গুণ ও শক্তির প্রকাশ। তাই দেব-দেবীর আরাধনার মাধ্যমে ঈশ্বরের সান্নিধ্য চাওয়া অযৌক্তিক নয়।
    ৪. এই উদার ধারণা পারস্পরিক বিদ্বেষ কমিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি গড়ে তোলে।

    অতএব, শ্রীরামকৃষ্ণের উপদেশের আলোকে শেখর বাবুর চিন্তা যথার্থ ও যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন