হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

শোভন ফাল্গুনী পূর্ণিমায় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানটিতে ছোট বড় সকলে মিলে একে অন্যকে গুড়া রং মাখামাখি করে। অকল্যাণকে দূর করার জন্য পূজার আগের দিন বুড়ির ঘর পুড়িয়ে প্রতীকী অনুষ্ঠান করা হয়। অন্যদিকে আকাশদের বাড়ির সামনের মন্দিরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান চলছে। অনুষ্ঠানটিতে সকল ধরনের লোকজন দূর-দূরান্ত থেকে আসছে। অনুষ্ঠানে সবসময় শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরামচন্দ্রের নাম জপ হচ্ছে। মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে মন্দিরের মাঠ।

  1. ক)

    সংক্রান্তি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কোন ধর্মাচারের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে আলোকিত করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    শোভন যে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আকাশদের বাড়ির সামনের মন্দিরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে কি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব? সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলা মাসের শেষ দিনকে সংক্রান্তি বলে।

  2. খ)

    দীপাবলি ধর্মাচারের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে আলোকিত করা যায়। কালীপূজা বা শ্যামাপূজার দিন রাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে এই উৎসব পালিত হয়। প্রদীপের আলো দিয়ে অন্ধকার দূর করা হয়, যা অজ্ঞানতার মোহান্ধকার দূর করার প্রতীক। সকল কুসংস্কার প্রদীপের আগুনে পুড়িয়ে জ্ঞানের আলোয় সারা বিশ্ব আলোকিত হোক, এই ব্রত নিয়েই দীপাবলি পালিত হয়।

  3. গ)

    শোভন ফাল্গুনী পূর্ণিমায় যে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে, তা দোলযাত্রা।

    ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন রাধা-কৃষ্ণকে আবীর ও কুঙ্কুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয় এবং সবাই পরস্পরকে রং মাখিয়ে আনন্দ করে। এই পূজার আগের দিন ফাল্গুনী শুক্লা চতুর্দশীতে 'বুড়ির ঘর' বা 'মেড়া' পুড়িয়ে অমঙ্গলকে ধ্বংস করার প্রতীকী অনুষ্ঠান করা হয়। এটি মূলত বৈষ্ণবীয় উৎসব। বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবীর নিয়ে রাধিকা ও গোপীদের সাথে রং খেলায় মেতেছিলেন, সেই ঘটনা থেকেই এ উৎসবের প্রবর্তন। একে বসন্ত-উৎসব এবং বাংলার বাইরে হোলি বলা হয়।

    উদ্দীপকে শোভনের অনুষ্ঠানে ছোট-বড় সবাই মিলে একে অন্যকে গুঁড়া রং মাখামাখি করে এবং পূজার আগের দিন বুড়ির ঘর পুড়িয়ে অকল্যাণ দূর করার প্রতীকী অনুষ্ঠান হয়। এই দুটি বৈশিষ্ট্য দোলযাত্রার সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়।

    সুতরাং, শোভন দোলযাত্রা উৎসবে অংশ নিয়েছে।

  4. ঘ)

    আকাশদের বাড়ির সামনের মন্দিরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি নামযজ্ঞ। হ্যাঁ, এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব।

    নামযজ্ঞে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরামচন্দ্রের পূজা করা হয় এবং বিভিন্ন সুরে, ছন্দে ও তালে কৃষ্ণনাম ও রামনাম কীর্তন করা হয়। অনুষ্ঠানটি স্থান, সময় ও আয়োজন অনুযায়ী কয়েক প্রহরব্যাপী চলে। উদ্দীপকে মন্দিরে সবসময় শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরামচন্দ্রের নাম জপ হচ্ছে, যা নামযজ্ঞেরই বৈশিষ্ট্য। এর সপক্ষে যুক্তি নিচে দেওয়া হলো।

    ১. সকল শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ: হরিনাম শুনলে পুণ্য হয় ও দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মেলে, এই বিশ্বাসে দূর-দূরান্ত থেকে সকল ধরনের মানুষ নামযজ্ঞে আসে। ধনী-গরিব ও ছোট-বড় একই স্থানে মিলিত হয়।
    ২. মিলনমেলা: উদ্দীপকে মন্দিরের মাঠ মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। পাঠ্যবই অনুযায়ীও নামযজ্ঞ মানুষের মিলনমেলায় রূপ নেয়।
    ৩. ভেদাভেদ ভুলে একাত্মতা: সবাই ভেদাভেদ ভুলে একাত্ম হয়ে যায়। এতে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
    ৪. ধর্মাচারের সামাজিক গুরুত্ব: ধর্মানুষ্ঠান ও ধর্মাচার মানুষকে ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী করে এবং সমাজ ও পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করে। এই মনোভাব থেকে সম্প্রীতি ও ঐক্য গড়ে ওঠে।

    সুতরাং, নামযজ্ঞের মতো ধর্মানুষ্ঠান সকল মানুষকে এক জায়গায় মিলিয়ে ভেদাভেদ দূর করে, ফলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন