হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

উত্তম কলেজে যাবার সময় দেখতে পেল একজন ছিনতাইকারী এক মহিলার ব্যাগ নিয়ে দৌড়াচ্ছে আর মহিলাটি চিৎকার করছেন। তা দেখে উত্তম ছিনতাইকারীকে তাড়া করে ধরে ফেলল। এক সময় ছিনতাইকারীর আঘাতে উত্তমের কপাল থেকে রক্ত ঝরতে লাগল। কিন্তু তা সত্ত্বেও উত্তম ছিনতাইকৃত ব্যাগ উদ্ধার করে মহিলার হাতে তুলে দিল।

  1. ক)

    তরণীসেনের পিতার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    কেন সৎসাহসের প্রয়োজন হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উত্তমের কৃতকর্ম থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা তোমার জীবনে কীভাবে কাজে লাগাতে পার? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উত্তমের সৎসাহস যেন তরণীসেনের সৎসাহসেরই প্রতিরূপ-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    তরণীসেনের পিতার নাম বিভীষণ।

  2. খ)

    সৎসাহস মানে সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয় না পেয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। যখন কেউ দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে, তখন দুর্বলকে রক্ষা করতে এবং অত্যাচারীকে প্রতিহত করতে সৎসাহসের প্রয়োজন হয়। ভীরু ও কাপুরুষ মানুষ কল্যাণকর কাজ করতে পারে না। সৎসাহসী ব্যক্তি সমাজ, দেশ ও জাতির বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তাই সৎসাহস প্রয়োজন।

  3. গ)

    উত্তম কলেজে যাওয়ার পথে এক ছিনতাইকারীকে তাড়া করে ধরে এবং মাথা থেকে রক্ত ঝরার পরও মহিলার ব্যাগ উদ্ধার করে ফেরত দেয়। উত্তমের এই কাজে সৎসাহস প্রকাশ পেয়েছে।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয় না পেয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো বা অন্যের মঙ্গলের জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহস দেখানোকে সৎসাহস বলে।

    আমার জীবনে প্রয়োগ: উত্তমের কাজ থেকে আমি শিখেছি, অন্যায় দেখে চুপ থাকা উচিত নয়।
    ১. আমার চারপাশে কেউ দুর্বলের ওপর অত্যাচার করলে আমি ভয় না পেয়ে তার পক্ষে দাঁড়াব এবং প্রয়োজনে বড়দের সাহায্য নেব।
    ২. স্কুল বা পাড়ায় অন্যায়, চুরি বা হয়রানি দেখলে আমি সত্য কথা বলব এবং ন্যায়ের পক্ষ নেব।
    ৩. বিপদে পড়া মানুষকে সাধ্যমতো সাহায্য করব এবং নিজের ক্ষতির আশঙ্কায় পিছিয়ে যাব না।

    এভাবে আমি সৎসাহসী হয়ে সমাজের উপকারে আসতে পারব।

  4. ঘ)

    উত্তমের সৎসাহস তরণীসেনের সৎসাহসেরই প্রতিরূপ, এ কথা যথার্থ।

    পাঠ্যবইয়ে সৎসাহস বলতে বোঝানো হয়েছে সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয়শূন্য হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো অথবা ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিজেকে উৎসর্গ করা। তরণীসেন ছিলেন এর আদর্শ। উত্তম ও তরণীসেনের সাদৃশ্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. ঝুঁকি জেনেও এগিয়ে যাওয়া: দ্বাদশবর্ষীয় বালক তরণীসেন রাবণের অনুমতি না পেয়েও রাজি করিয়ে যুদ্ধে যান। উত্তমও বিপদের ঝুঁকি জেনে ছিনতাইকারীকে তাড়া করেছে। দুজনেই ভয়কে জয় করেছে।
    ২. ক্ষতি সহ্য করেও লক্ষ্যে অটল: তরণীসেন রামের বাণে বক্ষে বিদ্ধ হয়ে প্রাণ দেন। উত্তমের কপাল থেকে রক্ত ঝরলেও সে ব্যাগ উদ্ধার না করে ছাড়েনি। দুজনের কেউই ব্যথা বা বিপদের কারণে লক্ষ্য থেকে সরে যায়নি।
    ৩. অন্যের জন্য আত্মত্যাগ: তরণীসেন দেশ ও মাতৃভূমি রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। উত্তম একজন অসহায় মহিলার সম্পদ রক্ষার জন্য নিজের রক্ত ঝরিয়েছে। উভয়ের কাজেই পরের কল্যাণের জন্য ত্যাগ প্রকাশ পায়।
    ৪. অন্যায় প্রতিরোধ: দুর্বলের ওপর অন্যায় হলে তাকে রক্ষা করা সৎসাহসের পরিচয়। উত্তম ছিনতাইয়ের অন্যায়কে প্রতিহত করেছে। তরণীসেন লঙ্কার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য লড়েছেন।

    অবশ্য তরণীসেনের সৎসাহস রণক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জনের স্তরে, আর উত্তমের সাহস দৈনন্দিন জীবনের ঘটনায়। তবে মূল চেতনা একই।

    সুতরাং, ঝুঁকি, আত্মত্যাগ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের দিক থেকে উত্তমের সৎসাহস তরণীসেনের সৎসাহসেরই প্রতিরূপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন