ইসলাম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
ইসলাম প্রশ্ন
প্রেক্ষাপট-১: জনাব 'ক' একজন আধুনিক শিক্ষিত লোক। তিনি নিয়মিত সালাত, সাওম ও যাকাত আদায় করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক যুগেই নবি-রসুলদের আগমন প্রয়োজন।
প্রেক্ষাপট-২: জুমার দিন ইমাম সাহেব পরকালীন একটি স্তর নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, সেই ভয়ানক বিভীষিকাময় দিনে সকল মানুষের মাথার উপর সূর্য থাকবে এবং সকল মানুষ প্রচণ্ড তাপে ঘামতে থাকবে।
- ক)(1)
কুফর কাকে বলে?
- খ)(2)
“আমাকে শাফায়াত করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
‘ক’ এর বিশ্বাসটি পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের পরিপন্থী? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ইমাম সাহেবের বক্তব্যে উল্লিখিত দিনের ভয়াবহতা থেকে নিষ্কৃতি লাভের উপায় আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আল্লাহ, রাসুল বা ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহকে অস্বীকার করা বা অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে।
- খ)
হাদিসটির অর্থ, কিয়ামতের দিন আল্লাহর অনুমতিক্রমে গুনাহগার মুমিনদের জন্য সুপারিশ করার বিশেষ মর্যাদা রাসুল (স) কে দেওয়া হয়েছে। হাশরের কঠিন সময়ে তিনি উম্মতের ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। এটি তাঁর বিশেষ সম্মান ও উম্মতের প্রতি আল্লাহর রহমতের প্রকাশ।
- গ)
জনাব 'ক' বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক যুগেই নবি-রাসুলের আগমন প্রয়োজন। এ বিশ্বাস পাঠ্যবইয়ের খতমে নবুয়ত (নবুয়তের সমাপ্তি) এর পরিপন্থী।
হযরত মুহাম্মদ (স) সর্বশেষ নবি ও রাসুল। কুরআনে বলা হয়েছে, তিনি আল্লাহর রাসুল ও শেষ নবি। তাঁর পরে আর কোনো নবি আসবেন না। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের পথনির্দেশ। তাই নতুন নবির আগমন প্রয়োজন মনে করা এই আকিদার বিরোধী।
- ঘ)
ইমাম সাহেবের বক্তব্যে উল্লিখিত দিনটি হলো হাশরের দিন, যেদিন মানুষের মাথার ওপর সূর্য থাকবে এবং মানুষ তাপে ঘামতে থাকবে। এ ভয়াবহতা থেকে নিষ্কৃতির উপায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো।
১. ইমান ও সৎকর্ম: আল্লাহ, রাসুল ও আখিরাতে বিশ্বাস রেখে সালাত, সাওম, যাকাতসহ ফরজ ইবাদত পালন করা।
২. তাকওয়া অবলম্বন: নির্জনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করে পাপ থেকে বিরত থাকা।
৩. ন্যায়পরায়ণতা ও দান: হাদিসে বর্ণিত আছে, ন্যায়পরায়ণ শাসক, আল্লাহর ইবাদতে বেড়ে ওঠা যুবক এবং গোপনে দানকারী ব্যক্তি সেদিন আল্লাহর আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবে।
৪. শাফাআতের আশা ও তওবা: তওবা করে পাপ থেকে ফিরে আসা এবং রাসুল (স) এর আনুগত্য করা, যাতে তাঁর শাফাআত লাভ করা যায়।সুতরাং, ইমান, তাকওয়া ও সৎকর্মই হাশরের ভয়াবহতা থেকে মুক্তির পথ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও