ভূগোল এবং পরিবেশ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
জারিন যে কারখানায় কর্মরত সেগুলো শতকরা ৭৫ ভাগ ঢাকা অঞ্চলে অবস্থিত। জারিফ যে কারখানায় কাজ করে তার উৎপাদিত পণ্য সরাসরি কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়। অপরদিকে সামি যে শিল্পে কাজ করে সেই শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাচ্ছে।
- ক)(1)
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কাকে বলে?
- খ)(2)
লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণ সুবিধাজনক নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জারিফ যে শিল্পে কাজ করে তার বিবরণ দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জারিন ও সামির উৎপাদিত পণ্যের কোনটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে বেশি অবদান রাখছে? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
একটি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থান, অঞ্চল বা জেলার মধ্যে যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।
- খ)
লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে রেলপথ নেই, কারণ সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থা রেলপথ নির্মাণের অনুকূল নয়। লক্ষ্মীপুর বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত নিম্নভূমি ও নদীবহুল এলাকা। নিম্নভূমি সহজে বন্যাকবলিত হয়। নদী বেশি থাকলে এবং মৃত্তিকার বুনন যথেষ্ট মজবুত না হলে রেলপথ গড়ে ওঠা কঠিন ও ব্যয়বহুল। তাই এই অঞ্চলে নৌপথই বেশি ব্যবহৃত হয়।
- গ)
জারিফের কারখানার উৎপাদিত পণ্য সরাসরি কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়, তাই সে সার শিল্পে কাজ করে।
১. বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত ফসল দরকার, আর এজন্য সার প্রয়োজন।
২. ১৯৬১ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে প্রথম সার কারখানা স্থাপিত হয়। বর্তমানে ১৭টি সার কারখানা আছে। প্রধান কারখানাগুলো হলো ঘোড়াশাল, আশুগঞ্জ, পলাশ ইউরিয়া, চট্টগ্রাম ট্রিপল সুপার ফসফেট ও ইউরিয়া, যমুনা সার কারখানা ও ফেঞ্চুগঞ্জ অ্যামোনিয়াম সালফেট সার কারখানা।
৩. প্রাকৃতিক গ্যাসের সহজলভ্যতার কারণে এ শিল্পের উন্নয়নের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। - ঘ)
উদ্দীপকের জারিন তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করে, কারণ এ শিল্পের প্রায় ৭৫ ভাগ কারখানা ঢাকা অঞ্চলে অবস্থিত। সামি পাট শিল্পে কাজ করে, কারণ এর পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা কমছে। বর্তমানে অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের অবদান বেশি।
১. রপ্তানি আয়: ২০২৩-২০২৪ সালে পোশাক শিল্প থেকে বাংলাদেশ ৩৬,১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮১.২৪ শতাংশ। এ শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের শীর্ষে।
২. কর্মসংস্থান: দক্ষ ও অদক্ষ বিপুল শ্রমশক্তির, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ হয়েছে। একে 'বিলিয়ন ডলার' শিল্প বলা হয়।
৩. পাট শিল্পের অবস্থা: পাট শিল্পের পণ্য (চট, বস্তা, কার্পেট ইত্যাদি) রপ্তানি হলেও এর আন্তর্জাতিক চাহিদা কমে যাচ্ছে, ফলে আয়ও তুলনামূলক কম।সুতরাং, জারিনের উৎপাদিত পণ্য অর্থাৎ তৈরি পোশাক বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও