অর্থনীতি ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
PT=MV+M′V′ \mathrm{PT}=\mathrm{MV}+\mathrm{M}^{\prime} \mathrm{V}^{\prime} যখন, P = দামস্তরT = ক্রয়-বিক্রয়ের পরিমাণM = বিহিত মুদ্রার পরিমাণv = বিহিত মুদ্রার প্রচলন গতিM' = ব্যাংক সৃষ্ট ঋণপত্রের পরিমাণV' = ব্যাংক সৃষ্ট ঋণপত্রের প্রচলন গতিউদ্দীপকের আলোকে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
- ক)(1)
অর্থের যোগান কাকে বলে?
- খ)(2)
অর্থের চাহিদাকে কেন অপরিবর্তিত ধরা হয়?
- গ)(3)
M \mathrm{M} ও M' এর সাথে P \mathrm{P} ও অর্থের মূল্যের (VM) সম্পর্ক নিরূপণ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত সমীকরণটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত মোট প্রচলিত মুদ্রা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের সৃষ্ট মোট চলতি ও সঞ্চয়ী আমানতের সমষ্টিকে অর্থের যোগান (Money Supply) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থের পরিমাণ তত্ত্বে অর্থনীতিবিদ আরভিং ফিশার স্বল্পকালীন অবস্থা বিবেচনা করে অর্থের চাহিদাকে অপরিবর্তিত বা স্থির ধরেছেন।
ফিশারের মতে, মানুষ মূলত দৈনন্দিন লেনদেন সম্পাদনের প্রয়োজনেই অর্থের চাহিদা করে থাকে (PT)। স্বল্পকালে সমাজের মোট লেনদেনের পরিমাণ (T), উৎপাদন কৌশল, বাণিজ্য প্রথা, জনগণের অভ্যাস ও আচরণ ইত্যাদি সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। ফলে স্বল্পমেয়াদে লেনদেনজনিত কারণে অর্থের চাহিদা স্থির থাকে বলেই তত্ত্বে একে অপরিবর্তিত ধরা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সমীকরণে হলো বিহিত মুদ্রার পরিমাণ এবং হলো ব্যাংক সৃষ্ট ঋণপত্রের পরিমাণ। সামগ্রিকভাবে নির্দেশ করে সমাজে অর্থের মোট যোগান। এর সাথে দামস্তর () এবং অর্থের মূল্যের () সম্পর্ক নিম্নরূপ:
১. ও -এর সাথে দামস্তর ()-এর সম্পর্ক: অন্যান্য অবস্থা (যেমন মুদ্রার প্রচলন গতি , এবং মোট লেনদেন ) অপরিবর্তিত থাকলে, অর্থের পরিমাণ ( ও ) যে হারে বাড়ে বা কমে, দামস্তর () ঠিক সেই একই হারে বাড়ে বা কমে। অর্থাৎ অর্থের পরিমাণের সাথে দামস্তরের সম্পর্ক সম্মুখী বা প্রত্যক্ষ এবং সমানুপাতিক।
২. ও -এর সাথে অর্থের মূল্য ()-এর সম্পর্ক: আমরা জানি অর্থের মূল্য দামস্তরের বিপরীত, অর্থাৎ । সুতরাং, অর্থের পরিমাণ ( ও ) বৃদ্ধি পেলে দামস্তর বৃদ্ধি পায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য হ্রাস পায়। একইভাবে অর্থের পরিমাণ হ্রাস পেলে দামস্তর হ্রাস পায় এবং অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পায়। অতএব, অর্থের পরিমাণের সাথে অর্থের মূল্যের সম্পর্ক বিপরীতমুখী বা ঋণাত্মক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সমীকরণটি হলো অর্থনীতিবিদ আরভিং ফিশারের বিখ্যাত অর্থপরিমাণ তত্ত্বের সম্প্রসারিত লেনদেন সমীকরণ:
এখানে সমীকরণটির দুটি অংশ রয়েছে:
১. অর্থের চাহিদা (): সমীকরণের বামপাশে হলো সাধারণ দামস্তর এবং হলো মোট পণ্য ও সেবার লেনদেনের পরিমাণ। পণ্য ও সেবার মোট লেনদেন সম্পন্ন করার জন্যই মূলত অর্থের চাহিদা সৃষ্টি হয়। তাই হলো সমাজের মোট অর্থের চাহিদা বা বিক্রয়মূল্যের সমষ্টি।২. অর্থের যোগান (): সমীকরণের ডানপাশ সমাজে অর্থের কার্যকর যোগান নির্দেশ করে। এখানে হলো বিহিত মুদ্রার পরিমাণ এবং হলো তার প্রচলন গতি। আবার আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণ বা ব্যাংকমুদ্রা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফিশার (ব্যাংক সৃষ্ট ঋণমুদ্রা) এবং (ব্যাংক সৃষ্ট ঋণের প্রচলন গতি) যোগ করেছেন। ফলে মোট অর্থের যোগান দাঁড়ায় ।
ভারসাম্য অবস্থা: সমীকরণ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ে সমাজের মোট অর্থের যোগান ও অর্থের চাহিদা পরস্পর সমান হয় ()। এখান থেকে দামস্তর নির্ণয় করা যায়:
ফিশারের মতে, স্বল্পকালে এবং স্থির থাকে বলে দামস্তর () সরাসরি বিহিত মুদ্রা ও ব্যাংক মুদ্রার পরিমাণের () সাথে সমানুপাতিক হারে পরিবর্তিত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত সমীকরণটি দিয়ে সমাজে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির সাথে সাথে দামস্তর ও মূল্যস্ফীতির প্রত্যক্ষ প্রভাব অত্যন্ত চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও